কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব, প্রাণ গেল ৩৩৯৮ জনের
আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি বা ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
প্রায় চার মাসে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ৩৯৮ হয়েছে।
আজ রোববার ডিআর কঙ্গোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ সপ্তাহের শুরুতে দেশটির সপ্তম প্রদেশে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, রোগটির বিস্তার সম্ভবত ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
ডিআর কঙ্গোতে সর্বশেষ এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এর আগে আরও ১৬ বার ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে দেশটিতে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে তা সংঘাতকবলিত পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
এসব এলাকায় কয়েক দশক ধরে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তৎপর। ফলে সেখানে সরকারি সেবার উপস্থিতি তেমন নেই বললেই চলে। প্রয়োজনের তুলনায় স্বাস্থ্য অবকাঠামোও অপ্রতুল।
এ সপ্তাহের শুরুতে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও কঙ্গো-ব্রাজাভিলের সীমান্তবর্তী সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও ইবোলা শনাক্ত হয়।
কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৭১ জন সেরে উঠেছেন।
সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সব সূচকেই সংক্রমণের সংখ্যা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি জানান, প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ৬১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে ‘অন্তত ২১ দিন ধরে’ নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ সংক্রমণ ইতুরিতে।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানকার স্কুলগুলোতে ইবোলা শনাক্ত হওয়ায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়ার এক শিক্ষার্থীর মা অ্যাঞ্জেল মাগানি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ কোন শিশু কোন পরিবার থেকে এসেছে কিংবা ওই পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন, তা আমরা জানি না।’
তিনি বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করলেও আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’
বুনিয়ার স্কুল কর্মকর্তা রজার মুঙ্গিম্বো বলেন, ‘সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো শ্রেণিকক্ষে যাতে ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী না থাকে, সেটা নিশ্চিতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’
‘শিশুদের একে অপরকে স্পর্শ না করার বিষয়ে অবগত করা হচ্ছে। তারা যাতে নিয়মিত হাত ধোয়, সেটাও নিশ্চিত করা হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।
গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ইবোলা। গত ১৯ আগস্ট বার্তা সংস্থা এপির এক্সপ্লেইনারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা মূলত সংক্রমিত ব্যক্তি বা প্রাণীর শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।
রক্ত, লালা, বমি, মল, প্রস্রাব, ঘাম ও বুকের দুধের মতো শরীরের তরল এবং এসব তরলে দূষিত বস্তু স্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। মৃত ইবোলা রোগীর দেহ থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে, কারণ মৃত্যুর পরও দেহে সক্রিয় ভাইরাস থাকতে পারে।
তবে ইবোলা সাধারণত বাতাসে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায় না।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ধরন। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে কয়েকটি টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি পরীক্ষাধীন রয়েছে।


