দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির রাজ্য পার্লামেন্টে কট্টর ডানপন্থি স্পিকার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে প্রথম উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে কোনো রাজ্য পার্লামেন্টের স্পিকার পদ পেয়েছে ‘আলটারনেটিফ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড’ বা এএফডি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত খলনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের মৃত্যুর ৮১ বছর পর ‘নব্য-নাৎসি’ দলটি এই সাফল্য অর্জন করল।

আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

গত ৬ সেপ্টেম্বর স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এএফডি রাজ্য পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।

রাজ্যের নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতারা মঙ্গলবার রাজধানী মাগডেবুর্গের পার্লামেন্টে প্রথমবারের মতো জড়ো হয়ে স্পিকার নির্বাচন করেন।

এএফডির প্রার্থী টোবিয়াস রাউশ ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৯টি এবং পাঁচজন ভোটদানে বিরত থাকেন।

অভিবাসনবিরোধী ও মস্কোপন্থি হিসেবে পরিচিত এএফডি রাজ্য নির্বাচনে অল্পের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ৮৩টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে ৩৯টি।

ছোট বামপন্থি দল বিএসডব্লিউর পাঁচ আইনপ্রণেতা আগেই জানিয়েছিলেন, তারা ৩৫ বছর বয়সী রাউশকে ভোট দেবেন। রাশিয়া ও অভিবাসন ইস্যুতে দলটির অবস্থান এএফডির অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়।

মঙ্গলবারের ফলাফলের অর্থ হলো, গোপন ব্যালটে আরও চারজন এমপি রাউশের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটি রাজ্যটিতে সরকার গঠনের এএফডির আশার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।

ওই রাজ্যে এএফডি সরকার গঠন করলেও সেটাও হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মান রাজনীতিতে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন।

বিএসডব্লিউর উপনেতা ক্রিশ্চিয়ান লায়ে রাউশকে ভোট দেওয়ার দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, ‘অন্যান্য দলগুলো এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার যে কৌশল হাতে নিয়েছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।’

সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে লায়ে জানান, এভাবে এএফডির প্রতি অসহযোগিতামূলক আচরণ না করে বরং তাদের কার্যক্রম ও উদ্যোগের রাজনৈতিক বিরোধিতা করাই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে রাউশ ‘ভিন্নমতকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং স্বচ্ছভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করার’ প্রতিশ্রুতি দেন।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির নেতা উলরিশ সিগমুন্ড জানান, তিনি ডিসেম্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আশা করছেন।

তার এই লক্ষ্য পূরণ হলে সেটা হবে এএফডির আরেকটি বড় অর্জন।

বিএসডব্লিউ এখন পর্যন্ত ওই পদে উলরিশ সিগমুন্ডকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারির সময় সরকারের নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দল সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে।

গত মাসে পূর্বাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ভেস্টার্ম পমেরানিয়া রাজ্যের নির্বাচনের ফলেও বাকিদের থেকে এগিয়ে ছিল এএফডি।

তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া বামপন্থি দলের একটি জোট সেখানে সরকার পরিচালনা অব্যাহত রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, শহর-রাজ্য বার্লিনে বামপন্থি দল লিনকে পার্টি জয় পেয়েছে।

জার্মানির তিন আঞ্চলিক নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজয়ের কারণে কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন বা সিডিইউর নেতা ও দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি জার্মানির স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে এবং অভিবাসনের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে এএফডির জনপ্রিয়তা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু এর পরিবর্তে তার জোট সরকার বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে মতবিরোধে জর্জরিত হয়েছে।

অন্যদিকে, এএফডির সমর্থন বেড়ে সর্বশেষ জনমত জরিপে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

আর সিডিইউ বা সিএসইউর সমর্থন কমে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।