ইয়েমেনি বাহিনীর অভিযানের জবাবে সৌদি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা
হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ে জড়িয়েছে ইয়েমেনের সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। হুতিরাও থেমে নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি মোকাবিলার পাশাপাশি সৌদি আরবেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান সমর্থিত হুতিরা।
এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
বুধবার হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবিও রয়েছে।
ইয়েমেনে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ের মধ্যেই এসব হামলার দাবি করল গোষ্ঠীটি।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। গত মাসে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় তারা।
বুধবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই লড়াইয়ের কারণে দেশটির ভেতরেই দুই লাখের বেশি মানুষ নিজ নিজ বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার চলতি সপ্তাহে হুতিদের হাত থেকে নিজ ভূখণ্ডের দখল ফিরে পেতে পাল্টা অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
তারা দাবি করেছে, ইতোমধ্যে লোহিত সাগরের কৌশলগত কয়েকটি এলাকা ও বন্দরনগরী মোখা থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরান-সমর্থিত হুতিরা বলছে, তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড ধরে রেখেছে।
এএফপি উভয় পক্ষের সামরিক সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উভয়ই নিজ দাবিতে অটল—হুতিরা বলছে, তারা কোনো ভূখণ্ডের দখল হারায়নি, আর সরকারি বাহিনী বলছে, হুতিদের বেশ কিছু এলাকা থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ একেবারেই সীমিত। পাশাপাশি খুব দ্রুতই এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলাচ্ছে।
যার ফলে উভয় পক্ষের দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের সুযোগ পায়নি এএফপি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এইমাত্র রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে এই হামলা নিখুঁত ছিল। যার ফলে বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।’
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে থাকতেই প্রতিহত করা হয়েছে।
অন্য একটি পোস্টে হুতিরা জানিয়েছে, ইয়েমেন সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের বিমানবন্দরের কাছে একটি সামরিক সরবরাহ বহরেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের সাবা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে।
সংস্থাটি পরিবহন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কায়রো থেকে আসা একটি ফ্লাইটের নির্ধারিত অবতরণের কয়েক মিনিট আগে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রানওয়ের কাছে গিয়ে পড়ে।
যার ফলে ফ্লাইটটি সেখানে অবতরণ করতে না পেরে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়।
হুতিদের মুখপাত্র সারি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতেও তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
‘এগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে’, যোগ করেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সৌদি রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরে হামলা চালানোর দাবি করল হুতিরা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির আকাশসীমা ঘন ঘন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি স্বীকার করেনি বা কোনো হামলাও নিশ্চিত করেনি।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক জোট ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বর্তমানে গোষ্ঠীটির সর্বশেষ অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করছে জোটটি।
সোমবার জোটটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর শুরু করা পাল্টা অভিযানের সমর্থনে তারা বিমান হামলা চালাচ্ছে।
চার বছর যুদ্ধবিরতির পর জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার শুরু হয়।