দিল্লিতে বিক্ষোভ

ককরোচ প্রধান দীপকেসহ শীর্ষ নেতাদের নেওয়া হলো অজ্ঞাত স্থানে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে।

দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজ থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও মুখপাত্র সৌরভ দাসকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে একই বিক্ষোভের সমর্থনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে দুই অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শনিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ উড়োজাহাজ থেকে নামার পরপরই দিল্লি পুলিশ সিজেপির তিন নেতাকে আটক করে। পরে তাদের বিমানবন্দরের ভেতরে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শরদচন্দ্র পাওয়ার) জাতীয় মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্দে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি সকালে মুম্বাই থেকে সিজেপির নেতাদের সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছিলেন।

আমাকে গ্রেপ্তার করুন: পুলিশকে দীপকে

দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারবিরোধী প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির নেতাদের বহনকারী উড়োজাহাজে প্রবেশ করে পুলিশ। এ সময় অভিজিৎ দীপকে পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘আমি গ্রেপ্তার হতেই এখানে এসেছি। আমাকে গ্রেপ্তার করুন।’

জবাবে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘না, এটি গ্রেপ্তার নয়। দয়া করে সহযোগিতা করুন।’

দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তিন নেতাকে আটক করার ঘটনায় সিজেপি এর আগে অভিযোগ করে, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই দলটির নেতৃত্বকে নিষ্ক্রিয় করার উদ্দেশ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

দলটি তাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন। তবে পুলিশ এ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।

মুম্বাইয়ে আটক দুই অধিকারকর্মী

দিল্লির বিক্ষোভের সমর্থনে মুম্বাইয়ে আয়োজিত কর্মসূচি থেকেও দুই অধিকারকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানান, সামাজিক অধিকারকর্মী তুষার গান্ধী ও ফিরোজ মিথিবোরওয়ালাকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশ।

মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে এর আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, প্রায় ৭ হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানীতে জড়ো হতে পারেন। বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ, কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রাজধানীগামী বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

দ্য হিন্দুর আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড থাকা অন্তত ১০০ জনকে রাতভর অভিযান চালিয়ে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এ ছাড়া, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে।