হুতি হামলার মুখে প্রাসাদ বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ সালমান
হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্যে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস)। বাংকার-সুবিধাসহ কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এসব প্রাসাদে তাকে রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৮ জন নিহত ও অন্তত ৩০০ জন আহত হন। গত এক দশকে সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
এ হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। সৌদি আরবের মক্কা চুক্তির মিত্ররাও দেশটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
৪১ বছর বয়সী যুবরাজ সালমানকে গত মঙ্গলবারের পর থেকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ওই দিন জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রক্ত দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে তার অবস্থান ও চলাফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুবরাজের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মঙ্গলবারের পর থেকে তাকে বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বহর কীভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে হামলার একটি সম্ভাব্য কৌশলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তারা বলেন, হুতিরা প্রথমে একাধিক ড্রোন ছোড়ে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বহর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে যায়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের হাতে এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এ ধরনের প্রযুক্তির কারণে সৌদি আরবের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থাসহ অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, হামলার আগেই কেন সতর্কবার্তা দেওয়া যায়নি। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছায়। এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পরও কেন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগাম সতর্ক করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামলাটি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত হতে থাকা সংঘাত আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সাত মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এ সংঘাত চলছে।
এদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে হুতিদের পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান চালানোর আগে ওই স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর জবাবে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুতিরা। গতকাল গোষ্ঠীটি জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানার তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি কার্যকর করলে তারা রিয়াদের বিমানবন্দর, একটি তেল শোধনাগার এবং দাম্মামে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালাবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব হুতিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয় হুতিরা। এরপর থেকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের পাল্টা অভিযানে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব।