সিঙ্গাপুরে ৪৯ বছর পর কোনো মন্ত্রীর দুর্নীতির দায় স্বীকার
সিঙ্গাপুরের সাবেক মন্ত্রী এস ঈশ্বরণ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দায় স্বীকার করেছেন। প্রায় চার দশক আগে স্বাধীন দেশ হিসেব যাত্রার শুরুর পর এবারই প্রথম দেশটির কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাবেক পরিবহনমন্ত্রী এস ঈশ্বরণের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে সেগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিনি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দায় স্বীকার করে নেন।
এ বছরের শুরুতে সিঙ্গাপুরে ফর্মুলা ওয়ান রেসিং চালুর জন্য খ্যাতি অর্জনকারী পরিবহন মন্ত্রী ঈশ্বরণের বিরুদ্ধে ৩৫টি অভিযোগ আনা হয়, যার বেশিরভাগই দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট। বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ হিসেবে বিবেচিত সিঙ্গাপুরে এই ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
তবে বেশিরভাগ অভিযোগের বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। কৌঁসুলিরা পাঁচটি অভিযোগ নিয়ে কাজ করেন। যার মধ্যে একটি ছিল 'বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া' এবং বাকি চারটি ছিল দুইজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উপহার নেওয়ার বিষয়ে।
ঈশ্বরণ (৬২) পাঁচ অভিযোগেই দায় স্বীকার করেছেন।
স্ট্রেইটস টাইমস ও সিঙ্গাপুরের স্থানীয় গণমাধ্যম সিএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।
গুরুতর অভিযোগগুলো বাতিলের পর ঈশ্বরণ বাকি পাঁচ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, 'আমি অভিযোগ মেনে নিচ্ছি।'
কৌঁসুলিরা তাকে ছয় থেকে সাত মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে চেয়েছিলেন।
তিন সন্তানের পিতা ঈশ্বরণ দুই জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার লাখেরও বেশি সিঙ্গাপুর ডলার (তিন লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যমানের উপহার গ্রহণ করেন। তার হলেন, আবাসন ও হোটেল ব্যবসায়ী ওং বেং সেং। ওং সিঙ্গাপুরে ফর্মুলা ওয়ান রেসিং চালুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অপরজন হলেন লাম কক সেং। তিনি ঈশ্বরণের সাবেক নির্বাচনী ওয়ার্ডের বিভিন্ন তৃণমূল সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
ঈশ্বরণকে তারা ওয়েস্ট এন্ড শোর টিকিট, উড়োজাহাজের ব্যয়বহুল টিকিট, হুইস্কির বোতল, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের টিকিট ও একটি ব্রম্পটন বাইসাইকেলের মতো উপহার দেন।
ওং বা লামের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। মালয়েশীয় হোটেল ব্যবসায়ী ওং বেং সেং এর খরচে বিজনেস ক্লাস ফ্লাইটে যাতায়াত করেন ঈশ্বরণ। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে সেখানে বাধা দেন তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে 'বিচারি প্রক্রিয়ায় বাধা নেওয়ার' অভিযোগ আনে আদালত।
উল্লেখ্য, জাতিগতভাবে মালয়েশীয় হলেও সিঙ্গাপুরেই বসবাস করেন ওং বেং সেং। তিনি দেশটির সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের অন্যতম।
সিঙ্গাপুরে সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের ৫০ সিঙ্গাপুর (৩৮ মার্কিন ডলার) ডলারের বেশি মূল্যমানের উপহার গ্রহণ করার নিয়ম নেই।
ইতোমধ্যে ঈশ্বরণ সরকারি কোষাগার তিন লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (দুই লাখ ৯৫ হাজার মার্কিন ডলার) ফিরিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি যেসব উপহার গ্রহণ করেছেন, সেগুলো তিনি আদালতের কাছে সোপর্দ করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এতে ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) ভাবমূর্তির ওপর বড় আঘাত এসেছে বলে ভাবছেন তারা।
আগামী বছরের নভেম্বরে দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজিত হতে যাচ্ছে।
জানুয়ারিতে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়ার পর পদত্যাগ করেন ঈশ্বরণ।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আদালতে নিজের সুনাম পুনরুদ্ধার করবেন।
ঈশ্বরণ বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হতে পারে।

