বিক্ষোভ দমনে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা ইরানি বিপ্লবী গার্ডের, প্রস্তুত সেনাবাহিনীও

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভের সীমারেখা টেনে দিয়ে 'রেড লাইন' ঘোষণা করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

একইসঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা জনসম্পত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার জন্য প্রস্তুত।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা দেয়া তাদের 'রেড লাইন।'

শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ইরানের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে আইআরজিসি।

চলমান পরিস্থিতিকে 'অগ্রহণযোগ্য'বলে উল্লেখ করেছে তারা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই রাতে 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

এসব হামলায় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

এদিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনে থাকা ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

আইআরজিসি ও ইরানের সেনাবাহিনীর এই ঘোষণার একদিন আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের কড়া বার্তা দেন। জানান, বিক্ষোভকারীদের গুলি করলে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, 'ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র।'

যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার পর শুক্রবার রাতভর বিক্ষোভ অব্যাহত ছিলো ইরানের বিভিন্ন শহরে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শেষকৃত্যের ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়।

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে দুই সপ্তাহ আগে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আরও তীব্র হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শহরে।

বিক্ষোভকারীরা এখন ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছে।

ইরানের অভিযোগ, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদ রয়েছে।