মাচাদোকে ওয়াশিংটনে ডাকলেন ট্রাম্প, আতঙ্কে কারাকাস

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার শান্তিতে নোবেল জয়ী বিরোধীদলের নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ওয়াশিংটনে ডেকে পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বভাবতই, এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় কারাকাসে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা নিউইয়র্কে নিয়ে আসার পর দেশটির সেনাবাহিনী ও আদালতের আশির্বাদ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।

অবিলম্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন দেলসির প্রতি সমর্থন জানান। সে সময় মনে হয়েছিল, ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনো মাচাদো।

তবে গত কয়েকদিনে আবারও খবরের শিরোনাম হয়েছেন মাচাদো। নিজের নোবেল পুরষ্কার ট্রাম্পকে দিয়ে দেওয়ার বা তার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা ওই নেত্রী।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়েছে, এই সপ্তাহেই মাচাদোর সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। এই ঘোষণায় চাপে পড়েছে কারাকাসের অন্তর্বর্তী সরকার।

মাদুরোর আমলে দেশটির বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকা রাজনৈতিক বন্দীদের শিগগির মুক্তি দিতে চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ।

৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের শাসক মাদুরোকে আটকের পর থেকে মাচাদোর বিষয়ে তেমন কোন আলোচনা শোনা যায়নি। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, তারাই ভেনেজুয়েলা 'চালাবেন'।

মাচাদো ও তার সহযোগী এদমুন্দো গনজালেজ উররুশিয়াকে উপেক্ষা করে ট্রাম্প ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে থাকেন।

তবে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত দেলসিকে হুশিয়ার করতে ছাড়েননি ট্রাম্প। 'ওয়াশিংটনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার সঙ্গে তাল মিলিয়ে' চলতে না পারলে চরম পরিণতির হুমকি দেন রিপাবলিকান নেতা। বিশেষত, লাতিন আমেরিকার দেশটির বিস্তৃত তেলের মজুদ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে চান না তিনি।

Machado
নোবেল জয়ের মুহূর্তে মাচাদো। ফাইল ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-মাচাদোর বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

অপরদিকে, ভেনেজুয়েলা আরও ১১৬ বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দায়ে তাদেরকে আটক করেছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর প্রশাসন।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও বিরোধীদলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব মতে, বিক্ষোভ থেকে ৮০০ থেকে ১,২০০ এর মতো মানুষকে আটক করা হয়েছিল।

মাচাদোর সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণার আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিনিধিরা কারাকাস সফর করেন। তারা সেখানে ওয়াশিংটনের দূতাবাস খোলার বিষয়ে আলাপ করেন। সাত বছর আগে দুই দেশের কূটনীতিক সম্পর্কের অবসান ঘটেছিল।

গত রোববার ট্রাম্প জানান, দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে বৈঠকে তার আপত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন দেলসির প্রশাসনের সঙ্গে 'খুব ভালো ভাবে' কাজ করে যাচ্ছে।

Machado and Pope
পোপের সঙ্গে মাচাদো। ছবি: রয়টার্স

সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্প এখনো দেলসিকে বাতিলের খাতায় পাঠাননি। একইভাবে, মাচাদোর সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কোনো কারণে দেলসি রদ্রিগেজ বা তার প্রশাসন 'বেঁকে বসলে' বিকল্প হিসেবে শান্তিতে নোবেলজয়ী মাচাদোর কথা ভেবে রেখেছেন ট্রাম্প।

তবে আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পরই হয়তো আরও স্পষ্ট করে জানা যাবে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে আগাচ্ছে।