ডেনমার্কের ৬০ শতাংশ মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘শত্রু’: জরিপ

By স্টার অনলাইন ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের দেশের অংশ বলেই ভাবেন ডেনমার্কের বাসিন্দারা। কাগজেকলমে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকলেও গ্রিনল্যান্ডকে 'স্বশাসিত' ও 'স্বার্বভৌম' হিসেবেই বিবেচনা করে কোপেনহেগেন। শীতপ্রধান দেশ হয়েও দুই অঞ্চলের মানুষের সম্পর্কে উষ্ণতার অভাব নেই।  

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'গ্রিনল্যান্ডের দখল' নেওয়ার ইচ্ছায় স্বভাবতই নাখোশ ড্যানিশরা। সাম্প্রতিক এক জরিপে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

সরকারি সংবাদমাধ্যম ডিআর-এর জরিপে জানা গেছে, ডেনমার্কের ৬০ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে 'শত্রু' হিসেবে দেখছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির পাঁচ ভাগের একভাগ মানুষও ওয়াশিংটনকে 'মিত্র' ভাবতে পারছেন না। 

প্রথাগতভাবে, ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত। এখনো ওয়াশিংটনকে 'সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র' আখ্যা দেয় কোপেনহেগেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে 'ট্রাম্পের আবদার' ড্যানিশ কর্তৃপক্ষকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের সামনে প্রশ্ন ছিল, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে কি মিত্র না শত্রু হিসেবে দেখছেন?

জবাবে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ 'মিত্র' জবাব দিয়েছে।

Greenland
গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, সম্পদের দিকে চোখ ট্রাম্পের--এমন দাবি করেন অনেকেই। ফাইল ছবি: রয়টার্স

২০ শতাংশ জবাব দেন, 'উত্তর জানা নেই' এবং তিন শতাংশ মানুষ জবাব দিতে আগ্রহী নন বলে জানান।

এর আগে ট্রাম্প 'প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী' ব্যবহার করে হলেও গ্রিনল্যান্ডের দখল নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার যুক্তি, 'রাশিয়া-চীনের হুমকি' থেকে মুক্তি পেতে গ্রিনল্যান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আনুষ্ঠানিকভাবে ডেনমার্কের অংশ হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডকেও ন্যাটো সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওই সামরিক জোটের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে যায়। কারণ ন্যাটোর সনদে বলা হয়েছে এক সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে বাকি সব সদস্য দেশ ওই দেশকে সুরক্ষা দিতে সেনা নিয়ে এগিয়ে আসবে।

তবে ন্যাটোর এক সদস্য আরেক সদস্যের ওপর হামলা চালালে কি হবে, সেটার কোনো জবাব ন্যাটো সনদে নেই। স্বভাবতই, ট্রাম্পের হুমকি জোটকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।

তবে জানুয়ারিতে ওই অবস্থান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

জরিপটি পরিচালনা করেছে বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এপিনিয়ন। এক হাজার ৫৩ জন ডেনমার্কবাসী এতে অংশ নেন। তাদের সবার বয়স ১৮ বছরে বেশি। ২১ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত জরিপ চলে। 

১৭ জানুয়ারি হাজারো মানুষ কোপেনহেগেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভে অংশ নেন।

গত শনিবার আবারও হাজারো মানুষ মার্কিন দূতাবাসের দিকে রওনা হন। এবারের 'নীরব প্রতিবাদে' নেতৃত্ব দেয় ডেনমার্কের অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের একটি সংগঠন।

আফগানিস্তানে মোতায়েন অমার্কিন ন্যাটো সেনাদের অবদানকে খাটো করে দেখা এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের অন্যায্য উদ্যোগের প্রতিবাদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন সাবেক সেনা সদস্যরা।