গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তি হবেই: মার্কিন দূত ল্যান্ড্রি
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়া উচিত এবং শেষ পর্যন্ত তা হবেই—এমন মন্তব্য করেছেন গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি।
আজ শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্যান্ড্রি বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি একটি চুক্তি হওয়া উচিত এবং তা অবশ্যই হবে।'
তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তিনি আরও বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি ডেনমার্ককে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কী চান। এখন বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করবেন।'
ল্যান্ড্রি জানান, তিনি আগামী মার্চ মাসে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা করছেন।
উত্তেজনা নিরসনে ডেনমার্ক সফরে মার্কিন প্রতিনিধি দল
এদিকে চলমান উত্তেজনা কমাতে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে যাচ্ছেন মার্কিন কংগ্রেসের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ক্রিস কুনসের নেতৃত্বে দুদিনের এই সফরে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকারি ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে দলটি।
সফর শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস কুনস বলেন, 'এ সফরের উদ্দেশ্য ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মন্তব্য শোনা এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা।'
গঠনমূলক সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোই তাদের সফরের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তার জন্য ন্যাটোর মাধ্যমে অংশীদারিত্বের সুযোগ আছে কিনা— এমন প্রশ্নের উত্তরে ডেমোক্র্যাট এই সিনেটর বলেন, 'একসাথে পরিকল্পনা করলে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।'
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে হুমকি আছে কি না— এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।
দুই দলের সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সিএনএনের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করছেন।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর শাহিন বলেন, 'ট্রাম্প বার বার সমস্যা তৈরি করতে খুব পটু। যুদ্ধ থামানোর পরিবর্তে তিনি আরও যুদ্ধে জড়াচ্ছেন।'
ট্রাম্পের নিজ দলের সিনেটররাও ক্ষুদ্ধ। রিপাবলিকান সিনেটর মুরকোস্কি বলেন, 'গ্রিনল্যান্ডকে সম্পদ নয়, মিত্র হিসেবে দেখা উচিত।'
রাশিয়ার অপ্রত্যাশিত সমর্থন
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে রাশিয়ার সমর্থন পেয়েছে ডেনমার্ক।
ক্রেমলিনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের ভূখণ্ড হিসেবেই বিবেচনা করে মস্কো।
দ্বীপটিকে ঘিরে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক নেই বলে জানায় ক্রেমলিন।
রাশিয়া আরও জানায়, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া ও চীনকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য হুমকি হিসেবে দাবি করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
মস্কোর মতে, এই সংকট পশ্চিমাদের তথাকথিত নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ও দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ।