গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে এপস্টেইনকে জড়িয়ে মন্তব্য, ট্রাম্পের মামলার হুমকি
যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের 'ভুত' গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডকেও ছাড়েনি। অনুষ্ঠান চলাকালে সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া হঠাৎ করেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও এপস্টেইনকে জড়িয়ে মন্তব্য করে বসেন। এতেই চটেছেন রিপাবলিকান নেতা। মামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
বছরের সেরা গানের পুরস্কার পায় মার্কিন শিল্পী বিলি আইলিশের 'ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার'। সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া আইলিশকে অভিনন্দন জানানোর পরে সেই বিস্ফোরক মন্তব্যটি করে বসেন।
নোয়া বলেন, 'ওয়াও। এটা এমন একটা পুরস্কার যা সব শিল্পী চায়। যেমনটা ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড চান।'
এরপর নোয়া আরও বলেন, 'এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এপস্টেইন মারা যাওয়ার পর তার (ট্রাম্পের) একটি নতুন দ্বীপ দরকার, যেখানে তিনি বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।'
টানা ছয় বছর গ্র্যামির সঞ্চালকের ভূমিকায় আছেন ট্রেভর নোয়া। এর আগে তিনি ঘোষণা দেন, এটাই সঞ্চালক হিসেবে তার শেষ বছর। আগের বছরগুলোতে গ্র্যামিতে নোয়া 'রাজনীতি' টেনে মন্তব্য করেননি বললেই চলে।
গ্র্যামি সঞ্চালক ট্রেভর নোয়ার মন্তব্যে চটেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে বলেন, 'গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং দেখার যোগ্য নয় বললেই চলে।'
এরপর ট্রেভর নোয়ার সমালোচনায় ফেটে পড়েন তিনি।
বলেন, 'আমি বিলের (ক্লিনটন) কথা বলতে পারছি না। কিন্তু আমি নিজে কখনো এপস্টেইন আইল্যান্ডে যাইনি। দ্বীপটির কাছাকাছিও যাইনি। আজকের এই মিথ্যা ও অবমাননাকর বক্তব্যের আগে আমার বিষয়ে এরকম অভিযোগও কেউ কখনো করেনি। এমন কী, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলোও এমন দাবি করেনি।'
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ট্রেভর নোয়াকে একজন 'ফালতু লোক' আখ্যা দেন। 'সব তথ্য জেনে' মন্তব্য করার উপদেশ দেন নোয়াকে।
এরপর নোয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প।
'আমি এই দুর্বল, হতভাগ্য, প্রতিভাহীন, নেশাগ্রস্ত সঞ্চালকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকতে আমার আইনজীবীদের পাঠাব। প্রস্তুত থাকুন, নোয়া। মজা হবে!', যোগ করেন ট্রাম্প।
ফ্লোরিডা-নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও এপস্টেইনকে প্রায়ই একই অনুষ্ঠানে দেখা যেত। তাদের দুইজনের 'বন্ধুত্ব' নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প চালু আছে মার্কিন মুলুকে।
বেশ কয়েক মাস ধরে 'এপস্টেইন ফাইলস' নামে পরিচিত নথি প্রকাশে বাধা দিয়ে গেছেন ট্রাম্প।
শুক্রবার ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ পেয়েছে।
এসব নথিতে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের উল্লেখ আছে। তাদের মধ্যে আছেন ট্রাম্প, ইলন মাস্ক, বিল গেটস, বিল ক্লিনটন ও সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর।

