গ্র্যামি জিতে কৃতজ্ঞতা জানালেন ধর্মগুরু দালাই লামা
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা বিশ্বসংগীতের সর্বোচ্চ সম্মান গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। সেরা অডিও বুক, বর্ণনা ও গল্পবলা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ৯০ বছর বয়সী এই ধর্মগুরু।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
বর্তমানে ভারতে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে আছেন তিব্বতের দালাই লামা।
সারাজীবন তিব্বতের সার্বভৌমত্বের দাবিতে নিরলস প্রচারণা চালিয়ে গেছেন এই ধর্মীয় নেতা। ১৯৫০ সালে দখল করা তিব্বতকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং।
'মেডিটেশানস: দ্য রিফ্লেকশানস অব হিস হোলিনেস দ্য দালাই লামা' নামের অ্যালবামের জন্য লস অ্যাঞ্জেলসে গ্র্যামির আসরে পুরস্কার পান দালাই লামা।
বিজয়ীর তালিকায় নিজের নাম দেখতে পেয়ে প্রতিক্রিয়া জানান তিব্বতের এই ধর্মগুরু। সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে এই স্বীকৃতি গ্রহণ করছি।'
আরও বলেন, 'এটাকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছি না। বরং এটা মহাজাগতিক দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি, যার ভাগীদার আমরা সবাই।'
প্রচলিত সংজ্ঞায় সর্বদা খয়েরি পোশাক, চপ্পল ও মোটা ফ্রেমের চশমা পরা এই আধ্যাত্মিক নেতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, 'আমি আসলে বিশ্বাস করি, বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের ভালো থাকা নিশ্চিত করতে জরুরি হলো শান্তি, সহমর্মিতা, পরিবেশের যত্ন নেওয়া ও মানবিক বিষয়গুলোকে আমলে নেওয়া।'
ওই অ্যালবামে দালাই লামার সঙ্গে কাজ করেছেন রুফাস ওয়াইনরাইট ও ম্যাগি রজার্স। তিব্বতের নেতার পক্ষে পুরষ্কার গ্রহণ করেন রুফাস।
১৯৫৯ সালে চীনা সেনারা বেইজিং-শাসনের বিরোধী তিব্বতিদের স্বাধীনতা সংগ্রাম দমন করে। সে সময় মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিব্বতের রাজধানী লাসা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন দালাই লামা। এরপর আর কখনোই নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখেননি এই আধ্যাত্মিক নেতা।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই নেতার দাবি, তিনি আরও বহু বছর বাঁচবেন। তবে তিব্বতবাসীরা 'দালাই লামা' বিহীন ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।
তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, তিনি ১৪তম দালাই লামা। তার আগে আরও ১৩বার তার জন্ম হয়েছে। প্রথম দালাই লামা পৃথিবীতে এসেছিলেন ১৩৯১ সালে।
দালাই লামাকে 'বিদ্রোহী' ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।
গত বছর চীন দাবি করে—বেইজিং দালাই লামার উত্তরসূরি বেছে নেবে। জবাবে তিব্বতের ধর্মীয় নেতা জানান, শুধু তার ভারত-ভিত্তিক কার্যালয়ের দালাই লামা নির্বাচনের অধিকার আছে।
