পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৬৭ সন্ত্রাসী নিহত, ভারতকে দোষারোপ: ডন
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৬৭ 'সন্ত্রাসী' নিহত হয়েছেন।
দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি স্থানে সমন্বিত হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, 'ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান' বেলুচিস্তানের ১২টি স্থানে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তবে সময়োচিত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে সব হামলাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
ডন বলছে, পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে বেলুচিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে 'ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান' নামে অভিহিত করছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভারতের কথিত ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্রগুলো আরও জানায়, গোয়াদারে সন্ত্রাসীরা এক বেলুচ শ্রমিকের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তিন শিশু রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বেতার সংস্থা রেডিও পাকিস্তান নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানায়, বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও সংঘর্ষ এখনো চলমান রয়েছে।
বেতার সংস্থাটি জানায়, 'এসব অভিযানের ফলে আরও সন্ত্রাসী হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।'
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গত দুই দিনে প্রদেশটির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী মোট ৭০ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।
তিনি লেখেন, 'সকালে নিজেদের মনোবল চাঙা করার চেষ্টায় ফিতনা-আল-হিন্দুস্তানের সন্ত্রাসীরা একাধিক স্থানে হামলার চেষ্টা চালায়। তবে বেলুচিস্তান পুলিশের সাহসী সদস্য ও এফসির (ফ্রন্টিয়ার কর্পস) বীর সদস্যরা যৌথভাবে এসব হামলা প্রতিহত করছেন এবং এখন পর্যন্ত আরও ৩৭ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছেন।'
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'এই হামলাগুলো আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারবে না। শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরা অভিযান চালিয়ে যাব।'
এসব হামলার পর কুয়েটা, সিবি ও চামান অঞ্চলে মোবাইল ফোন সেবা চালু থাকলেও মোবাইল ডাটা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডন।