অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তান, গড়ল রেকর্ডও

স্পোর্টস ডেস্ক

সাইম আইয়ুব ও বাবর আজমের অনবদ্য ফিফটির পর মোহাম্মদ নওয়াজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১১১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল পাকিস্তান। রোববার লাহোরে পাওয়া এই অনায়াস জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সফরকারীদের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল স্বাগতিকরা।

গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার সাইমের ৩৭ বলে ৫৬ ও বাবরের ৩৬ বলে অপরাজিত ৫০ রানের ওপর ভর করে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ২০৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাঁহাতি স্পিনার নওয়াজের ঘূর্ণি জাদুতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১৮ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে অজিদের ৯৬ রানেই গুটিয়ে দেন নওয়াজ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সংস্করণে কোনো দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড এটি। আগের কীর্তিটি ছিল ইংল্যান্ডের দখলে। ২০০৫ সালে সাউদাম্পটনে অজিদের বিপক্ষে ১০০ রানে জিতেছিল তারা।

অস্ট্রেলিয়ারকে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তান। এর আগে ২০১০ সালে ২-০ এবং ২০১৮ সালে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল তারা। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে পাকিস্তান দলকে দারুণ আত্মবিশ্বাস দেবে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২২ ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৯০ রানে হেরে যাওয়া অজিরা শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। অধিনায়ক মিচেল মার্শকে (১) প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরত পাঠান শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর নওয়াজ অন্য ওপেনার ম্যাথু শর্টকে (২) দ্রুত থামানোর পাশাপাশি ক্যামেরন গ্রিন (২২) ও মার্কাস স্টয়নিসকে (২৩) বিদায় করে জয়ের রাস্তা সুগম করেন। মাঝে শাহিন বোল্ড করেন ম্যাট রেনশকে (১)। ফলে মাত্র ৬৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা।

এরপর জশ ফিলিপ (১৪) ও কুপার কনোলিকে (০) ঝুলিতে ঢুকিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার অর্জন করেন নওয়াজ। তার আগের সেরা সাফল্য ছিল গত বছর শারজাহতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৯ রানে ৫ উইকেট শিকার। ১৬ রান দিয়ে পেসার শাহিন পান ২ উইকেট।

এর আগে টস জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যাটিং বেছে নেওয়া পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন সাইম ও বাবর। ফখর জামান (১০) ও অধিনায়ক সালমান আগা (৫) টিকতে না পারলেও তৃতীয় উইকেটে এই চাপ সামলে নেয় দলটি। সাইম ও বাবর ৪৫ বলে ৬৯ রানের কার্যকর একটি জুটি উপহার দেন। সাইম তার ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি ফিফটির পথে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান।

বাবরের অপরাজিত ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কার মার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ফিফটির (৩৯) রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। ডানহাতি তারকা ব্যাটার পেছনে ফেলেন ভারতের কিংবদন্তি বিরাট কোহলির ৩৮ ফিফটির কীর্তিকে।

শেষদিকে শাদাব খান মাত্র ১৯ বলে ৪৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে গ্যালারিতে আলোড়ন তোলেন। পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে সাজানো ইনিংসে তিনি বাবরের সঙ্গে ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন। ফলে শেষ ৫ ওভারে ৭০ রান তুলে পাকিস্তান ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা বিশাল পুঁজি নিশ্চিত করে।