ট্রাম্পের ‘ড্রিল বেবি ড্রিল’ ও বৈশ্বিক তেল-রাজনীতির নয়া বন্দোবস্ত
বিশ্ববাজারে তেল নিয়ে দুটি সুস্পষ্ট ভিন্ন মত দীর্ঘদিন প্রচলিত আছে। এক পক্ষ বলছে—শিল্পায়নের ফলে সারা পৃথিবীতে তেলের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। অন্য পক্ষ বলছে—নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ক্রমশ বাড়তে থাকায় দুনিয়াজুড়ে তেলের চাহিদা কমতে শুরু করেছে।
অর্থাৎ, বিশ্বমঞ্চে একই বিষয়ে দুটি 'সত্য' বিরাজ করছে। তাতে বিশ্বজুড়ে তেল-রাজনীতি কিন্তু থেমে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, একেক পক্ষ একেক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাজার বিশ্লেষণ করলেও আমজনতার সামনে যে 'বাস্তবতা' তুলে ধরা হচ্ছে, তা প্রকৃত অবস্থাকে নির্দেশ করে না।
এরই মধ্যে মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলো বাতিলের পাশাপাশি ঘোষণা দিয়েছেন—'ড্রিল বেবি ড্রিল'। অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী আরও বেশি কূপ-খনন।
তার এমন ঘোষণায় পরিবেশবাদীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালোও বিশ্লেষকের কেউ কেউ মনে করছেন—ব্যবসায়ী-রাজনীতিক ট্রাম্পের এমন ঘোষণা চলমান তেল-রাজনীতির অনেক 'হিসাব' এলোমেলো করে দিয়েছে।
অনেকে বলছেন—উন্নত বিশ্বে যে 'বাস্তবতা' বিরাজ করছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোয় দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। অর্থাৎ, শিল্পোন্নত দেশগুলোয় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর বিষয়ে সেখানকার জনমত ক্রমবর্ধমান হওয়ায় সেসব দেশের নেতাদের পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে।
বিপরীতে, সারাবিশ্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ক্রমবিকাশমান শিল্পকারখানার জ্বালানি মেটাতে খনিজ তেলের ওপর ব্যাপকহারে ভরসা করতে হচ্ছে।
আপাতদৃষ্টিতে তেলের বাজারে বিদ্যমান এই দুই 'বাস্তবতা'র আড়ালে 'রাজনীতি' লুকিয়ে আছে বলে মনে করছে সবপক্ষই।
সব পক্ষের ভাষ্য—যাদের টাকায় জ্বালানি নিয়ে গবেষণা হয় তাদের স্বার্থ অনুযায়ী তথ্য প্রকাশ পায়। বিশেষ করে, জ্বালানি গবেষণায় যখন ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেন তখন 'রাজনীতি' আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়।
এমনকি, বিবদমান দুই পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রকৃত 'সত্য' লুকানোর অভিযোগও করে আসছে।
জ্বালানি গবেষকরা একটি তথ্য বারবার দিয়ে থাকেন, তা হচ্ছে— বেশিরভাগ খনিজসমৃদ্ধ দেশ রাজনৈতিকভাবে সংঘাতপূর্ণ, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আছে বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ।
যেমন—আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার খনিজসম্পদে ভরপুর দেশগুলোর সার্বিক অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই যে সেসব দেশ প্রাকৃতিকভাবে এত ধনী।
অন্যদিকে, জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশগুলোয় একদিকে যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে অন্যদিকে, অর্থনৈতিকভাবেও তারা সমৃদ্ধ। এ ছাড়াও, জ্বালানি গবেষণা, প্রযুক্তি, উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থাসহ সবকিছুরই নিয়ন্ত্রণ উন্নত দেশের জ্বালানি সংক্রান্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে।
এশিয়ার গুটিকয়েক দেশসহ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শিল্পোন্নত দেশগুলোর হাতে টাকা থাকায় তারা তাদের জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করতে উন্নয়নশীল খনিজসমৃদ্ধ দেশগুলোয় হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করছে না।
এ ক্ষেত্রে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও মাদকপাচারের অভিযোগে দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে।
কারাকাসের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ওয়াশিংটনের অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ দিনশেষে ট্রাম্পের 'তেল রাজনীতি'কেই প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দরিদ্র দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হোয়াইট হাউস কোনো রাখঢাকই করছে না।
গত ৫ জানুয়ারি বিবিসির এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—ভেনেজুয়েলার তেল চান ট্রাম্প। তার পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজে আসবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয় শিরোনামটিতে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্প বলেছেন যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ভেনেজুয়েলার 'প্রায় ভেঙে পড়া' তেল-অবকাঠামো ঠিক করবে।
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের তথ্য মতে, ভেনেজুয়েলায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই হিসাবে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল মজুত আছে এই দেশে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোয় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে—এসব খনি এখন মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে।
গত ১৫ জানুয়ারি জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ইরানের বর্তমান শাসকদের পতন হলে তা বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ভেনেজুয়েলার তুলনায় বেশি তেল ঢুকবে বিশ্ববাজারে।
কেননা, ভেনেজুয়েলার তুলনায় চারগুণ বেশি তেল উত্তোলন করে ইরান।
তেলের তৃষ্ণা
'কালো সোনা' হিসেবে খ্যাত যে খনিজ তেলের 'জোরে' আজকের আধুনিক পৃথিবী ঘুরছে সেই খনিজ তেলের ব্যবহারের কথা প্রথম জানা যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার সালে। বিবিসির 'আমাদের পৃথিবী চালাতে যেভাবে এলো তেল' শিরোনামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরোনো সভ্যতার মানুষও তেলের ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল ছিলেন।
আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে তৎকালীন মিশরে মৃতদেহ রক্ষণাবেক্ষণে ও বেবিলনে (বর্তমানের ইরাক) নৌকা ও ভবন তৈরিতে তেল ব্যবহার করা হতো।
এতে আরও বলা হয়—১৮৫৯ সালে আধুনিক তেলশিল্পের শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির মতো তেল খনি আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর আসে তেলশিল্পের উন্নয়নে নতুন নতুন প্রযুক্তি।
১৮৮৫ সালে গ্যাসোলিন নামে পরিচিত কেরোসিনের এক উপজাত জার্মানিতে প্রথম মোটরগাড়িতে ব্যবহার করা হয়। এরপর জ্বালানি তেলের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।
১৯০৮ সালে আরব দুনিয়ায় প্রথম তেল আবিষ্কৃত হয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় মোটরগাড়ির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসোলিনের চাহিদায় যখন ঊর্ধ্বগতি তখন আরব তেল আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। পশ্চিমের তেল কোম্পানিগুলো দলে দলে আসতে থাকে মধ্যপ্রাচ্যে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়—প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আধুনিক রণতরী আসায় কয়লার পরিবর্তে তেলের চাহিদা বাড়তে থাকে। তখনই বোঝা যায়, আধুনিক বিশ্ব তেলের ওপর কতটা নির্ভরশীল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের নজর পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর।
১৯৪৪ সালের ৮ আগস্ট, অ্যাংলো-আমেরিকান পেট্রোলিয়াম অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভাগ করে নেয়। সেসময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট বলেছিলেন, 'পারস্যের (ইরানের) তেল তোমাদের (যুক্তরাজ্যের); আর ইরাক, কুয়েত ও সৌদি আরবের তেল আমাদের (যুক্তরাষ্ট্রের)।'
যা হোক, সেই চুক্তিতে খনিজসমৃদ্ধ দেশগুলোর জনগণের কথা কিছু বলা হয়নি। মোটাদাগে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বিশ্ববাজারে তেল নিয়ে রাজনীতি তখনই বেশ খোলাসা হয়ে পড়ে।
১৯৫০ এর দশকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের তেলের গুরুত্ব বুঝতে পারে। ব্রিটেন মধ্যপ্রাচ্যের তেল মিশরের সুয়েজ খাল দিয়ে পরিবহন করত। ১৯৫৬ সালে সুয়েজ খাল নিয়ে সংকট তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পশ্চিমের তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তেলের মুনাফার টাকা ভাগাভাগির জন্য দরকষাকষি শুরু করে।
এ ক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে যে ১৯৫১ সালে ইরানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক তেলকে জাতীয়করণ করলে ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ-মার্কিন গোয়েন্দারা সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং পশ্চিমপন্থি শাসক রেজা শাহ পাহলভিকে তেহরানের সর্বময় ক্ষমতায় বসায়।
১৯৬০ সালে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস (ওপেক) গঠন করে। এর মাধ্যমে তেল ব্যবহারকারী দেশগুলোর সঙ্গে উৎপাদনকারীদের সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়।
এখন সৌদি আরব ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস তেল বাণিজ্যে নতুন রাজনীতি যোগ করেছে।
১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ওপেক সদস্যরা ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেল অবরোধ দেয়। সেবছর বিশ্বমঞ্চে তেল নিয়ে প্রথম সংকট দেখা দেয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও জোরালো ব্যবস্থা নিতে থাকে।
সর্বশেষ, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে মাদকপাচারের অভিযোগে কারাকাস থেকে তুলে নিউইয়র্ক নিয়ে আসে মার্কিন সেনারা। এখন সেই দেশের তেলের খনিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।
তেলের তেজারতি
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য—পৃথিবীতে ১৬০ ধরনের বেশি খনিজ তেল পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা তেল বেশি দামে বিক্রি হয়। আর সবচেয়ে ভারী তেল বিক্রি হয় সবচেয়ে কম দামে।
চলতি সহস্রাব্দের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে হালকা তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়া দেশটি এখন সবচেয়ে বেশি তেল উত্তোলনকারী ও রপ্তানিকারক। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব তেল শোধনাগার আছে সেগুলো মূলত কম দামে কেনা ভারী তেল শোধন করার জন্য।
এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন চাচ্ছে নিজেদের উত্তোলিত হালকা তেল বেশি দামে রপ্তানি করে অন্য দেশ থেকে কম দামে ভারী তেল কিনে মার্কিন শোধনাগারগুলোকে সচল রাখতে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন ভেনেজুয়েলার ভারী তেলও। অনেকের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ভারী তেলের সুফল পেতে ৪ বছর লেগে যেতে পারে।
তাই হয়ত যুক্তরাষ্ট্র নতুন নতুন তেলসমৃদ্ধ দেশের দিকে তাকাচ্ছেন। এই তালিকায় আছে ইরানেরও নাম। পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটিতে বর্তমানে সরকারবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলন চলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানকার শাসকদের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছেন।
গত ১৫ জানুয়ারি বিবিসির 'ট্রাম্প, চায়না অ্যান্ড হাউ অয়েল ইজ ডিফাইনিং গ্রেট পাওয়ার পলিটিকস' শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, 'ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে তুলে আনার ঘটনা হয়ত বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আমরা নতুন যুগে বসবাস করছি।' এতে প্রশ্ন রাখা হয়, এমন বাস্তবতায় ইউরোপের অবস্থান কোথায়?
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি শতাব্দীতে তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা চলছে।
গত বছর ২ সেপ্টেম্বর বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—তেল বাণিজ্য রাশিয়া, চীন ও ভারতকে ঘনিষ্ঠ করেছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর পশ্চিমের দেশগুলো মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপালে বিশ্বের দুই জনবহুল দেশ চীন ও ভারত মিত্র রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনতে শুরু করে। এ ঘটনায় বেইজিং, নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
গত বছর ১২ নভেম্বর সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিসভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) পূর্বাভাস বলছে—বিশ্বব্যাপী খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়তে থাকবে। আইইএ-র ভাষ্যের সঙ্গে ওপেকের ভাষ্য একেবারেই বিপরীতমুখী।
একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওপেক বলছে—তেলের চাহিদা ক্রমশ কমছে।
যেটাই সত্য হোক না কেন—বাস্তবতা হচ্ছে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী খনিজ আহরণের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি আরও বেশি করে কূপ খননের কথা বলছেন এবং তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর জঙ্গি দমনের দাবি তুলে তেলসমৃদ্ধ নাইজেরিয়ায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।




