‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আনুষ্ঠানিকভাবে 'ভেনেজুয়েলার তেল' বিক্রি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম চালানে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের তেল (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ছয় হাজার ১০০ কোটি) বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তবে এই তেলের ক্রেতা কে বা কারা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। 

আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ও টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। 

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, 'ভেনেজুয়েলার মাদক-সন্ত্রাসী নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মানুষের উপকারে আসবে।'

'মার্কিন তেল খাতের যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করতে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ও প্রস্তুত, তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল ইতিবাচক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের পশ্চিম গোলার্ধকে মাদক-সন্ত্রাসী, মাদক পাচারকারী ও বিদেশি শত্রুর হাত থেকে সুরক্ষা দিচ্ছেন', যোগ করেন তিনি। 

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আরও তেল বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

তেল বিক্রির খবর সবার আগে প্রকাশ করে নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সেমাফর। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হচ্ছে। কাতারের একটি ব্যাংকও এর অন্তর্ভুক্ত।

সেমাফরের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতারের 'উদার মুদ্রানীতির' কারণে অর্থের প্রবাহে জটিলতা কম।  এ কারণেই কাতারের ব্যাংক বেছে নেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যতদিন পর্যন্ত না 'সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গতভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়', ততদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই 'ভেনেজুয়েলা চালাবে'।

সঙ্গে দেশটির তেলের মজুদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মার্কিন নেতা। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ঊর্ধ্বে ভেনেজুয়েলার ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল 'জব্দ' করে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে। তেল বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারই বণ্টন করবে।

Caracas
মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ১১ দিন পর কারাকাসে স্বাভাবিক জীবন ফিরে এসেছে। ছবি: রয়টার্স

এ ক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত করা হবে যাতে কোনো দুর্নীতিবাজ মহল বা শাসকগোষ্ঠী এর ফায়দা নিতে না পারে। বরং দেশটির জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে তেল বিক্রির অর্থ।

গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার রুগ্ন জ্বালানি খাতের পুনর্নির্মাণে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে অর্থের এই অঙ্কের পেছনে কোনো হিসাব আছে কি না, সেটা স্পষ্ট করেননি রিপাবলিকান নেতা। কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে রাজি হয়েছে এবং কি পরিমাণে, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প।

অপরদিকে, মার্কিন জ্বালানি খাতের প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের এসব পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। 

হোয়াইট হাউসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে এক্সনমোবিল-এর প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস বলেন, '(ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত) আপাতত বিনিয়োগযোগ্য নয়। আগে সেখানে বেশ কয়েক ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনিয়োগের বিনিময়ে আমরা কি পাব, সেটা বোঝার জন্য এটা ন্যুনতম পূর্বশর্ত।'

Trump
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

অন্যান্য কর্মকর্তারাও লাতিন আমেরিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেন।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ট্রাম্প ও তার শীর্ষ সহযোগীরা।

তা সত্ত্বেও, দিন শেষে কোনো প্রতিষ্ঠানই কারাকাসে লাখো-কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে জানা গেছে।

বুধবার তেল বিক্রির খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কানাডাসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কম দামে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।