যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের টানাপোড়েনে মধ্যস্থতা করতে চায় তুরস্ক

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী মোতায়েন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার চাহিদা অনুযায়ী 'পরমাণু চুক্তিতে' সই না করলে হামলার হুমকি দিতেও পিছপা হচ্ছেন না এই রিপাবলিকান নেতা।

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের 'অস্থিরতা' দূর করায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে রিজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দেশ তুরস্ক।

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

আগামীকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আঙ্কারা সফরে যাচ্ছেন। ওই সফরে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

fidan_araghchi.jpg
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন ও মধ্যস্থতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখবেন হাকান।

দুই দেশের সম্পর্কে আরও অবনতি দেখা দিলে তুরস্ক তাদের সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এমন সময় আরাকচি আঙ্কারা সফরে যাচ্ছেন যখন মার্কিন নেতা ইরানে সামরিক হামলার প্রছন্ন হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এ মাসের শুরুতে দেশটিতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করা হয়। অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। গ্রেপ্তার হন অনেকে। আটকদের অনেককেই ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় তেহরান।

মূলত এসব কারণেই হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।

পরবর্তীতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে নীরবে আন্দোলন দমন করে শাসকগোষ্ঠী।

তবে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এলেও জনমনে এখনো ক্ষোভ রয়েছে এবং প্রয়োজনে সেই বিক্ষোভের সলতেয় আগুন দেওয়ার চিন্তা করছেন ট্রাম্প। তিনি ভাবছেন, মার্কিন হামলা এলে ইরানের জনগোষ্ঠী মনোবল ফিরে পাবে। তারাই শাসকের পরিবর্তন ঘটাবে।

সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি মার্কিন নৌবহর এসে পৌঁছায়। ট্রাম্প হুশিয়ারি দেন, তারা প্রয়োজনে ইরানে হামলা চালাতে 'প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম'।

Donald Trump
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

শুক্রবারের বৈঠকে 'আলোচনার মাধ্যমে অস্থিরতা' দূর করার প্রস্তাব রাখবেন হাকান। এমনটাই জানিয়েছেন ওই কূটনীতিক সূত্র।

নাম না প্রকাশের শর্তে কূটনীতিবিদ জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সমর্থন করে না তুরস্ক। এমন উদ্যোগে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাত ছড়ানোর ঝুঁকি আছে।

অপরদিকে, বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা নিয়ে দুই পক্ষের যত মতভেদ আছে, তা নিরসন করাই সবচেয়ে প্রাধান্যের বিষয়।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান বলেন, 'ইরানে হামলা চালানো অনুচিত। নতুন করে আবার যুদ্ধ শুরু করাও ভুল কাজ। পরমাণু প্রকল্পের ফাইল নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ইরান প্রস্তুত'।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, 'অদূর ভবিষ্যতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়টিকে তুরস্ক সমর্থন জানায়। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।'