বিড়াল কেন এক পাশে ঘুমায়?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

খেয়াল করলে দেখবেন, বেশিরভাগ বিড়াল এক পাশ হয়ে ঘুমায়। মনে হতে পারে, এক পাশ হয়ে ঘুমাতেই পারে, তাতে সমস্যা কী? কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বিড়ালের এই স্বভাব নিয়ে একদল গবেষক গবেষণা করেছেন। কারেন্ট বায়োজলিতে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, বেশিরভাগ বিড়াল বাম পাশে কাত হয়ে ঘুমাতে বেশি পছন্দ করে।

এখন যে কারো মনে হতে পারে, এই স্বভাবের পেছনে একটি কারণ হলো বিড়াল অনেক ঘুমায়। হ্যাঁ, বিড়াল সত্যিই অনেক ঘুমায়! আর মানুষ তাদের ভিডিও করতে ভালোবাসে। এজন্য ইউটিউবে ঘুমন্ত বিড়ালের ভিডিওর অভাব নেই।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউরোপ ও কানাডার গবেষকরা ঘুমন্ত বিড়ালের ৪০৮টি ভিডিও বিশ্লেষণ করেন। সেখানে দেখা যায়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে বিড়ালরা বাম পাশে কাত হয়ে ঘুমাচ্ছে।

শরীরের এক পাশ ব্যবহারের প্রবণতা

গবেষকরা বলছেন, অনেক প্রাণীর শরীরের এক পাশ ব্যবহারে বিশেষ আগ্রহ থাকে। একে বলা হয় বিহ্যাভেরিওয়াল ল্যাটেরাইলিজেশন। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, বেশিরভাগ মানুষ ডানহাতি, আর বেশিরভাগ ক্যাঙ্গারু বাঁহাতি। এশিয়ান হাতিদের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায়, তাদের সামনের পা বেশি পছন্দ এবং একটি নির্দিষ্ট দিকে শুঁড় বাঁকাতে পছন্দ করে। 

একইভাবে বিড়ালও একপাশে ঘুমাতে পছন্দ করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষক দল।

মস্তিষ্কের দুই পাশের কাজ

গঠনগত ও কার্যগতভাবে মস্তিষ্ক দুই ভাগে বিভক্ত। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মস্তিষ্কে বাম ও ডান দুটি অংশ থাকে, যেগুলোকে বলা হয় হেমিস্ফিয়ার। তারা একসঙ্গে কাজ করলেও প্রত্যেকটির কিছু বিশেষায়িত কাজ আছে।

মানুষের ক্ষেত্রে বাম হেমিস্ফিয়ার ভাষা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ডান অংশ আকার-আকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয়
মস্তিষ্ক থেকে শরীরে যাওয়া স্নায়ুতন্তুগুলো মস্তিষ্কের নিচের অংশে এসে একে অপরকে অতিক্রম করে। তাই মস্তিষ্কের ডান অংশ শরীরের বাম অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, আর বাম অংশ শরীরের ডান অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

যখন বিড়াল বাম পাশে কাত হয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন সে তার বাম দিকের দৃশ্য দেখে, যা মস্তিষ্কের ডান অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। বিড়ালের ক্ষেত্রে এই অংশটি বেশ দক্ষ। বিশেষ করে সচেতনতা, বিপদ শনাক্ত করা এবং দ্রুত পালানোর মতো বিষয়গুলো সমন্বয় করার জন্য।

গৃহপালিত বিড়াল হয়তো আমাদের ঘরের বিছানার ওপর ঘুমায়। কিন্তু তাদের পূর্বপুরুষরা বনে ঘুমাতো এবং তাদের জেগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিপদ এড়াতে হতো।

গবেষকরা বলছেন, সম্ভবত এ কারণে বিড়াল বাম পাশে কাত হয়ে ঘুমায়, যেন জেগে ওঠার সময় মস্তিষ্কের ডান অংশ সক্রিয় হয়।

গবেষকরা আরও বলছেন, এটি এক ধরনের বেঁচে থাকার কৌশল। গৃহপালিত বিড়াল হয়তো এই আচরণটি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকেই পেয়েছে। যদিও এখন তাদের ওপর কোনো কায়োটির (নেকড়ের মতো দেখতে এক ধরনের প্রাণি) ঝাঁপিয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম, তবুও বাইরে বিপদের অভাব নেই।

একবার ভাবুন তো—কত বিড়ালকে আপনি রাস্তার মাঝখানে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেখেছেন?

বিড়ালের বাম পাশে কাত হয়ে ঘুমানোর আরেকটি কারণও থাকতে পারে বলে মনে করছেন এই গবেষকরা। তারা বলছেন, মস্তিষ্কের ডান অংশ কেবল দ্রুত বিপদ সংকেত দেয় না, বরং খেলনা, দ্রুত নড়াচড়া করা সম্ভাব্য শিকার কিংবা খাবারের মতো আবেগ উদ্দীপক জিনিসেও দ্রুত সাড়া দেয়। এ কারণে হয়তো বিড়ালের মধ্যে এক পাশে ঘুমানোর স্বভাব গড়ে উঠেছে।

মোটকথা, বিড়ালের নানা রকম স্বভাব আছে। তাই বাসার সবচেয়ে প্রিয় এই পৌষ্য নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা জটিল। এ কারণে বিজ্ঞানীরা বিড়ালের বিভিন্ন স্বভাব নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা করছেন। সেসব গবেষণায় নানা উত্তর মিলছে। তবে সেগুলোর কোনোটাই চূড়ান্ত বলে মনে করা হয় না।