ট্রাফিক সিগন্যালে কেন লাল, হলুদ ও সবুজ রঙ থাকে

এগুলোকে আমরা ট্রাফিক সিগন্যাল হিসেবে চিনি। কিন্তু কেন ট্রাফিক বাতি এই তিন রঙের হয়? আর কীভাবে এই পদ্ধতি চালু হলো।
স্টার অনলাইন ডেস্ক

রাস্তায় বের হলেই মোড়ে মোড়ে তিনটি ট্রাফিক লাইট দেখা যায়। এগুলো হলো লাল, সবুজ ও হলুদ। এগুলোকে আমরা ট্রাফিক সিগন্যাল হিসেবে চিনি। কিন্তু কেন ট্রাফিক বাতি এই তিন রঙের হয়? আর কীভাবে এই পদ্ধতি চালু হলো।

অবশ্য ২০ শতকের শুরুতে দৃশ্যটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। তখন বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে হঠাৎ করে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। একই রাস্তায় ট্রেন, ট্রলি, ঘোড়ার গাড়ি, বাইসাইকেল ও পথচারী চলাচল করত। এতে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়।

তখন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বলতে ছিল কেবল একজন পুলিশ অফিসার। তিনি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাই আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল আসার আগে রাস্তার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কেন লাল, হলুদ ও সবুজ রঙ ব্যবহার করা হয়

ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখি, লাল মানে বিপদ, সবুজ মানে নিরাপদ বা চলতে পারো। কিন্তু ট্রাফিক বাতির রঙ গাড়ি যুগের আগে ব্যবহৃত ধারণা থেকে এসেছে।

ট্রাফিক সিগন্যালের ইতিহাস মূলত ট্রেন সিগন্যালিং থেকে শুরু, যা আবার সেমাফোর নামের প্রাচীন যোগাযোগ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

লাল

লাল রঙ সর্বজনীনভাবে ‘বিপদ’ বোঝায়। তাই ট্রাফিক সিগন্যালের জন্য লাল রঙ বেছে নেওয়া হয়েছিল ‘থামো’ বোঝাতে।

গবেষণায় দেখা গেছে, লাল রঙ মানুষের শরীরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে হৃদস্পন্দন বাড়ায় এবং সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এটি আগুন ও রক্তের সঙ্গেও সম্পর্কিত, তাই বিপদের প্রতীক হিসেবে লাল সবচেয়ে উপযুক্ত।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। এতে দূর থেকেও সহজে দেখা যায়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সবুজ

সবুজ রঙ ‘চলো’ বা নিরাপদ চলাচল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আগে ট্রেন সিগনালে সবুজের পরিবর্তে সাদা আলো ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সাদা আলোর সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ঝুঁকি ছিল। এ কারণে সাদার পরিবর্তে সবুজ রঙ ব্যবহার শুরু হয়।

মানুষের চোখের কোষ সহজে সবুজ রঙ শনাক্ত করতে পারে, তাই দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়।

হলুদ

হলুদ রঙ সতর্কতা বোঝায়। এটি চালকদের সংকেত দেয়, সিগন্যাল খুব শিগগিরই সবুজ থেকে লাল হয়ে যাবে। হলুদ বাতি চালুর আগে চালকদের কোনো আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা ছিল না, ফলে দুর্ঘটনা বেশি হতো। পরে নিরাপত্তার জন্য হলুদ রঙ যুক্ত করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাফিক লাইটের ইতিহাস

প্রথম দিকের ট্রাফিক সিগন্যাল ছিল ১৮৬৮ সালে লন্ডনে। এটি তৈরি করেছিলেন রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার জেপি নাইট। তখন দিনে সেমাফোর ও রাতে গ্যাস ল্যাম্প ব্যবহার করা হতো। তবে একটি বড় দুর্ঘটনার কারণে এই পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায়।

১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাফিক লাইট তৈরি করেন পুলিশ অফিসার লেস্টার ওয়ার। এরপর বিভিন্ন উদ্ভাবনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আধুনিক সিগন্যাল তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে গেরেট মরগান তিন রঙের স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতির পেটেন্ট নেন, যা আজকের সিস্টেমের ভিত্তি।