আমেরিকানরা ‘ফুটবল’ না বলে ‘সকার’ বলে কেন

একসময় আমেরিকান ফুটবল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখন যারা সকার খেলত তারা নিজেদের আলাদা করে বোঝাতে ‘সকার’ শব্দটিই ব্যবহার করতে থাকে।
স্টার অনলাইন ডেস্ক

আমেরিকান ও ব্রিটিশদের মধ্যে অনেক মিল থাকলেও কিছু পার্থক্য আছে। আর তার মধ্যে একটি হলো একই খেলাকে দুই নামে ডাকা। কেউ বলে ফুটবল, কেউ বলে সকার। তারা সবাই ইংরেজিতে কথা বলে, তবুও পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো খেলাটির নাম নিয়ে এই মতভেদ কেন?

৯০ মিনিটের এই খেলায় থাকে দুটি গোলপোস্ট, সাদা-কালো বল, গোলকিপার। আর খুব পরিচিত নিয়ম হাত দিয়ে বল ধরা যাবে না। এই খেলাটিকেই বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ ‘ফুটবল’ বলে ডাকে। অথচ আমেরিকানরা বলে ‘সকার’।

এই নামের বিভ্রান্তির শুরু ১৮শ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। তখন বিভিন্ন ধরনের ‘ফুটবল’ খেলায় আলাদা আলাদা নিয়ম ছিল। সেগুলোকে আলাদা করে বোঝানোর জন্য তারা নামকরণে পরিবর্তন আনে। যেমন রাগবি খেলা। এটি এমন এক ধরনের খেলা যেখানে হাত ব্যবহার করা যায়, আগে এই খেলাকে ‘রাগবি ফুটবল’ বলা হতো। তবে সকার খেলায় হাতে দিয়ে বল ধরা যেত না, তখন এই খেলার নাম ছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’। পরে ইংল্যান্ডের মানুষ এই নামগুলো ছোট করতে শুরু করে। ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’ থেকে ‘অ্যাসোসিয়েশন’ বাদ দেওয়া হয়, আর ‘অ্যাসোসার’ বা ‘অ্যাসোকার’ থেকে ধীরে ধীরে ‘সকার’ শব্দটি তৈরি হয়।

এরপর জটিলতা আরও বাড়ে। ১৮৬৯ সালে আমেরিকার রাটগার্স ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই খেলায় রাগবি ও সকার দুই ধরনের নিয়মের সমন্বয় ছিল। সেখান থেকেই ‘আমেরিকান ফুটবল’ তৈরি হয়, যাকে অন্য দেশগুলো ‘গ্রিডিরন’ বলে।

একসময় আমেরিকান ফুটবল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখন যারা সকার খেলত তারা নিজেদের আলাদা করে বোঝাতে ‘সকার’ শব্দটিই ব্যবহার করতে থাকে। ফলে নামের এই পার্থক্য আরও স্থায়ী হয়ে যায়।

যদি ব্রিটেনে ‘সকার’ নাম চালু থাকত এবং আমেরিকানরা তাদের ফুটবলের জন্য অন্য কোনো নাম ব্যবহার করত, তাহলে হয়তো এত বিভ্রান্তি থাকত না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইংল্যান্ডে ‘সকার’ বাদ দিয়ে ‘ফুটবল’ কেন বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠল?

রিডার্স ডাইজেস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার প্রভাবজনিত কারণে ব্রিটেনেও ‘সকার’ শব্দটি জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু ১৯৮০ দশকের দিকে আমেরিকায় এই খেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠলে, ব্রিটিশরা ধীরে ধীরে ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়। সম্ভবত তারা এই শব্দটিকে বেশি আমেরিকান মনে করত, যদিও সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তবে কেউ কেউ মনে করেন, দুই দেশের সংবাদমাধ্যম তাদের নিজ নিজ পছন্দের শব্দ ব্যবহার করায় এই পার্থক্য আরও স্থায়ী হয়ে গেছে।

যদিও ব্রিটিশরা কেন পুরোপুরি ‘সকার’ শব্দটি বাদ দিল, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবুও এই ছোট্ট নামের পার্থক্যের পেছনে আছে দীর্ঘ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার বিবর্তনের গল্প।

এই নামের পার্থক্য ২০২২ বিশ্বকাপেও আলোচনার বিষয় ছিল। এমনকি ডেভিড বেকহ্যাম ও পেইটন ম্যানিংকে নিয়ে একটি মজার বিজ্ঞাপনও তৈরি হয়। আমেরিকান সমর্থকেরা স্টেডিয়ামে ‘ইটস কলড সকার’ বলে গান গেয়েছিল।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আরও কিছু দেশে ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন কানাডা, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।