বিজ্ঞান শব্দ: ডোপামিন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

কখনো বই পড়তে পড়তে আমরা সময়ের কথা ভুলে যাই। কিংবা কোনো ছবি আঁকা, খেলাধুলা বা পাজল সমাধান করতে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়ি যে, আর থামতেই ইচ্ছা করে না। এর পেছনে কাজ করতে পারে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ রাসায়নিক, নাম তার ডোপামিন।

ডোপামিন হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের বার্তাবাহক রাসায়নিক। এটি আমাদের শিখতে, মনোযোগ দিতে ও কাজ করতে উৎসাহ দেয়।

সায়েন্স নিউজ এক্সপ্লোরারের প্রতিবেদন অনুসারে, অনেকে মনে করেন ডোপামিন মানেই সুখের বা আনন্দের রাসায়নিক। আসলে বিষয়টি একটু ভিন্ন। ডোপামিন সরাসরি আনন্দ দেয় না। বরং এটি এমন কাজ করতে উৎসাহিত করে, যেগুলো আনন্দ বা তৃপ্তি দেয়।

ধরি, একটি সুন্দর ছবি আঁকছি। ছবিটি আঁকতে আঁকতে বেশ ভালো লাগছে। ওই ভালো লাগার মুহূর্তে মস্তিষ্ক ডোপামিন ছাড়ে। এই ডোপামিন বলে, ‘কাজটা চালিয়ে যাও, খুব ভালো হচ্ছে।’ ফলে আরও মনোযোগ দিয়ে কাজটি করা যায়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ডোপামিন কীভাবে কাজ করে

আমাদের মস্তিষ্কে কোটি কোটি ক্ষুদ্র স্নায়ুকোষ রয়েছে। এগুলোকে বলা হয় নিউরন।

একটি নিউরন আরেকটি নিউরনের কাছে খবর পাঠায়। কিন্তু তারা একে অপরের সঙ্গে সরাসরি লেগে থাকে না। মাঝখানে খুব ছোট্ট একটি ফাঁকা জায়গা থাকে।

ডোপামিন সেই ফাঁকা জায়গা পেরিয়ে এক কোষ থেকে অন্য কোষে বার্তা পৌঁছে দেয়। তাই বিজ্ঞানীরা একে রাসায়নিক বার্তাবাহক বলেন।

ডোপামিন আমাদের কী কী কাজে সাহায্য করে

ডোপামিন নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করে, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে, কোনো কাজ শেষ করার আগ্রহ বাড়ায়, লক্ষ্য পূরণের জন্য উৎসাহ দেয়, চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে, শরীরের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

তাই পড়ালেখা, খেলাধুলা, ছবি আঁকা কিংবা নতুন কিছু শেখার সময় ডোপামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডোপামিন কমে গেলে কী হয়

মস্তিষ্কে ডোপামিনের মাত্রা খুব কম হলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যেমন, কিছু মানুষের মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হয়। ফলে তারা সহজেই এক কাজ থেকে আরেক কাজে চলে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এমন কিছু সমস্যার সঙ্গে ডোপামিনের সম্পর্ক আছে।

এ কারণে চিকিৎসকেরা কখনো কখনো এমন ওষুধ ব্যবহার করেন, যা মস্তিষ্কে ডোপামিনের কাজ বাড়াতে সাহায্য করে।

শুধু কম ডোপামিন নয়, অতিরিক্ত ডোপামিনও ভালো নয়। কিছু মাদকদ্রব্য মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক পরিমাণ ডোপামিন তৈরি করে। তখন মানুষ বারবার সেই অনুভূতি পেতে চায়। এভাবে আসক্তি তৈরি হতে পারে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া, সারাক্ষণ ভিডিও গেম খেলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডুবে থাকার সঙ্গেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হাঁটা-চলা করতেও ডোপামিন দরকার

ডোপামিন কেবল আমাদের মন বা চিন্তার জন্য কাজ করে না। হাঁটা, দৌড়ানো, লেখা, আঁকা বা টাইপ করার মতো কাজগুলো ঠিকভাবে করতে ডোপামিন সাহায্য করে।

এ কারণেই কিছু রোগে মানুষের চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন ডোপামিন কমে যায়।

ডোপামিন শরীরের অন্য অনেক কাজেও সাহায্য করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরের লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখা এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গেও ডোপামিন জড়িত।

মজার তথ্য

প্রিয় গান শুনলে, মজার কোনো খেলা খেললে বা কোনো কঠিন কাজ সফলভাবে শেষ করলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই তখন আমাদের ভালো লাগে এবং আবারও সেই কাজ করতে ইচ্ছা করে।

সূত্র: সায়েন্স নিউজ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, টাইম ফর কিডস