সন্তানের ডিভাইসের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের যা জানা জরুরি
প্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপসহ নানা ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস। অনেক শিশুই অল্প বয়সেই নিজের প্রথম ডিভাইস হাতে পায়। নতুন ডিভাইস পেয়ে তারা যেমন আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে, তেমনি অভিভাবকদের মনে জন্ম নেয় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ। শিশুটি কী নিরাপদ থাকবে? অনলাইনে সে কী দেখবে? তার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে?
এসব উদ্বেগ একেবারেই স্বাভাবিক। তবে শুরুতেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস ঠিক করে নিলে এবং কয়েকটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করলে শিশুর ডিভাইস ব্যবহার অনেক বেশি নিরাপদ করা সম্ভব।
নিরাপত্তার প্রথম ধাপ প্যারেন্টাল কন্ট্রোল
শিশুর ডিভাইস নিরাপদ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করা।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের মাধ্যমে অভিভাবকরা নির্ধারণ করতে পারেন, শিশু কোন অ্যাপ ব্যবহার করবে, কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবে এবং কত সময় ডিভাইস ব্যবহার করবে। এর ফলে শিশুরা তাদের বয়স উপযোগী কনটেন্ট দেখতে পারে এবং অনুপযুক্ত বা ক্ষতিকর তথ্য থেকে দূরে থাকে।
এটি কেবল শিশুর নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, অভিভাবকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।
কারণ তারা জানেন, শিশুটি তার পছন্দের কাজগুলো করছে, তবে সীমার মধ্যেই।
লোকেশন সার্ভিস
বর্তমানের অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর অবস্থানভিত্তিক সেবা দিয়ে থাকে। কাছাকাছি স্থান দেখানো, স্থানীয় আবহাওয়ার তথ্য দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট এলাকার সেবা প্রদানের জন্য এসব অ্যাপ লোকেশন তথ্য ব্যবহার করে।
তবে এর একটি ঝুঁকিও রয়েছে। লোকেশন সার্ভিস চালু থাকলে অ্যাপগুলো শিশুর ডিভাইসের অবস্থান জানতে পারে। আর এর অর্থ হলো, অনেক ক্ষেত্রে শিশুটি কোথায় রয়েছে, সেই তথ্যও শেয়ার হতে পারে।
তাই প্রয়োজন না হলে লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখা ভালো। যদি নিরাপত্তার কারণে অবস্থান জানা প্রয়োজন হয়, তাহলে এমন অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে যেখানে কেবল অভিভাবকরাই সেই তথ্য দেখতে পারবেন।
অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে সুরক্ষা দেবে ইন-অ্যাপ পারচেজ
অনেক গেম ও অ্যাপে অতিরিক্ত ফিচার, ভার্চুয়াল আইটেম, বিশেষ পোশাক, ফিল্টার বা অন্যান্য সুবিধা কিনতে টাকা খরচ করতে হয়। শিশুরা অনেক সময় না বুঝেই এসব কেনাকাটা করে ফেলতে পারে।
ফলাফল হতে পারে অপ্রত্যাশিত বিল!
এই ঝুঁকি এড়াতে ডিভাইসের ইন-অ্যাপ পারচেজ অপশন বন্ধ করে দেওয়া বা পাসওয়ার্ড সুরক্ষা চালু করা উচিত। এতে কোনো কিছু কেনার আগে অভিভাবকের অনুমোদন লাগবে।
এ ছাড়া শিশুদের ‘লুট বক্স’ বা ভার্চুয়াল পুরস্কারের মতো বিষয় সম্পর্কেও সচেতন করা দরকার। কারণ এগুলো অনেক সময় শিশুদের অতিরিক্ত খরচ করতে উৎসাহিত করে।
সন্তানের সঙ্গে কথা বলা
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা যতই উন্নত হোক না কেন, শিশুর অনলাইন নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অভিভাবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও যোগাযোগ।
শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলুন। তাকে বোঝান—অনলাইনে কোন তথ্য শেয়ার করা নিরাপদ এবং কোনটি নয়। অপরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগের সময় কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। নিজের ছবি বা ভিডিও কখন এবং কার সঙ্গে শেয়ার করা উচিত। কোনো কিছু অস্বস্তিকর, ভয়ঙ্কর বা সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত অভিভাবককে জানানো কেন জরুরি।
শিশু যদি জানে যে, কোনো সমস্যা হলে সে নির্ভয়ে মা-বাবার কাছে যেতে পারবে, তাহলে অনলাইন ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
প্রয়োজন সচেতন ব্যবহার
ডিভাইস নিজে কখনো ভালো বা খারাপ নয়। এর প্রভাব নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর এবং ব্যবহারের ধরনে। তাই শিশুর হাতে প্রথম ডিভাইস তুলে দেওয়ার আগে সেটির নিরাপত্তাবিষয়ক ফিচারগুলো দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করা, লোকেশন সেটিংস পর্যালোচনা করা, ইন-অ্যাপ কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিশুর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা—এই কয়েকটি সহজ উদ্যোগ নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির ভিত্তি হতে পারে।
প্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের ডিভাইস থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা সম্ভব নয়। তাই তাদের শেখাতে হবে কীভাবে প্রযুক্তিকে নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে হয়।
সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ, ম্যাশেবল

