কাচ্চি বিরিয়ানি কীভাবে বিয়ের ‘অপরিহার্য’ খাবার হয়ে উঠল?

মান্নান মাশহুর জারিফ

সত্যি বলতে, কাচ্চি বিরিয়ানি আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবার না। তবুও, যখনই আমি কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই, তখনই কাচ্চি বিরিয়ানির জন্য একধরনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত, এটি এখন বিয়ের অপরিহার্য খাবারে পরিণত হয়েছে। তিন দশক আগেও কাচ্চি বিরিয়ানি ছিল ধনীদের আনুষ্ঠানিক খাবার। কেবল ঢাকার অভিজাত বিয়েতেই এই খাবারের আয়োজন হতো। কিন্তু এখন যেকোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেই কাচ্চি বিরিয়ানি পরিবেশন করা হয়।

একসময় বিয়ের খাবারের ধরন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিয়ের ভোজে থাকত ধোঁয়া ওঠা সুগন্ধি পোলাও, মিষ্টি স্বাদের মুরগির রোস্ট এবং সুস্বাদু মাটন রেজালা। বিয়ের মূল আয়োজনের আগের অনুষ্ঠান, যেমন: এনগেজমেন্ট বা গায়ে হলুদে পরিবেশন করা হতো তেহারি। অনেক সময় গরুর মাংস ও পরোটাও থাকত।

সেই পুরোনো ঘরোয়া ঐতিহ্য এখন একেবারেই বদলে গেছে। সেই জায়গায় এসেছে নতুন এই খাবার।

বিয়ের প্রধান খাবারে যে পরিবর্তটি এসেছে, সেটা কেবল রুচির পরিবর্তনের প্রতিফলন নয়, বরং সামাজিক আকাঙ্ক্ষারও প্রতিচ্ছবি। মূলত বাস্তবিক দিক বিবেচনায় কাচ্চি অন্য খাবারের তুলনায় সবার বেশি পছন্দের হয়ে উঠেছে। আগে বিয়ের আয়োজনে যেখানে একাধিক জটিল পদের প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন এটি হয়ে ওঠে স্বয়ংসম্পূর্ণ—‘এক খাবারেই সব!’ সুগন্ধি ভাত, মসলাযুক্ত মাংস এবং নিখুঁতভাবে রান্না করা আলুর সংমিশ্রণে এটি তখনো, এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ভোজ।

তবে সময় বদলেছে। এখন শুধু এদিক বিবেচনায় বিরিয়ানির আধিপত্য ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি কিছুটা মর্যাদারও প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং সম্ভবত সে কারণেই আধুনিক বিয়ের মেনু কেবল কাচ্চি বিরিয়ানিতে থেমে থাকতে পারে না।

এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত মাংসের পদ, সবজি, নানা ধরনের কাবাব, এমনকি কখনো কখনো মাছও। এসব পার্শ্ব খাবার ক্ষুধার চেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় আড়ম্বর প্রদর্শনের চাহিদা থেকে। কারণ বিয়ের আয়োজন নীরব আতিথেয়তা থেকে রূপান্তরিত হয়েছে প্রদর্শনীতে!

সব ধরনের ‘কুলিনারি ইনফ্লেশন’ সত্ত্বেও কাচ্চি বিরিয়ানি এখনো ঢাকার সব বিয়েতে আবেগীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। মসলার ঘ্রাণ, ধীরে রান্না করা মাংসের সুগন্ধ, জাফরান ও কেওড়া জলের সুবাস ভোজের হলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এখনো এই শহরে উৎসবের বার্তা দেয়।

সম্ভবত, ভালো কাচ্চি বিরিয়ানির সাফল্য এটাই। এটি শুধু বিয়েতে পরিবেশিত একটি খাবার নয়, বরং বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এতটাই যে, বিয়ের স্মৃতির সঙ্গেও এটি জড়িয়ে গেছে। এ কারণেই আমার মতো যারা কাচ্চির খুব বড় ভক্ত নয়, তাদের কাছেও এর জন্য আকাঙ্ক্ষা থেকেই যায়...