ফ্যারিনজাইটিস সম্পর্কে জানেন? কেন হয়
কমবেশি সবারই গলাব্যথা হয়। বিভিন্ন কারণেই এটি হতে পারে। গলাব্যথার অন্যতম একটি কারণ ফ্যারিনজাইটিস।
ফ্যারিনজাইটিস কেন হয় এবং হলে কী করতে হবে—এসব বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ।
ফ্যারিনজাইটিস কী
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, ফ্যারিনজাইটিস কী বুঝতে হলে আগে জানতে হবে ফ্যারিনক্স সম্বন্ধে। ফ্যারিনক্স হলো খাদ্যনালীর ওপরের একটি অংশ। ফ্যারিনক্স গলার পেছনের ফাঁপা নালী, যা নাক ও মুখকে খাদ্যনালী এবং শ্বাসনালীর সঙ্গে যুক্ত করে। ফ্যারিনক্স ১২ থেকে ১৩ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা। এর ৩টি অংশ আছে—
নাসোফ্যারিনক্স—এটি নাকের একদম পেছনে থাকে, যার দৈর্ঘ্য আড়াই সেন্টিমিটার।
ওরোফ্যারিনক্স—মুখের পেছনের অংশ, যেখানে টনসিল থাকে। এর দৈর্ঘ্য ৪ সেন্টিমিটার।
হাইপোফ্যারিনক্স—ওরোফ্যারিনক্সের নিচে থেকে যে অংশটুকু বা ল্যারিনক্সের পেছনে যে অংশটুকু থাকে, তাকে বলে হাইপোফ্যারিনক্স। এর দৈর্ঘ্য ৬ সেন্টিমিটারের মধ্যে।
এই ফ্যারিনক্সে যদি কোনো ধরনের সংক্রমণ বা প্রদাহ হয়, তখন সেটিকে বলা হয় ফ্যারিনজাইটিস।
কেন হয়
১. ভাইরাস সংক্রমণ থেকেই ফ্যারিনজাইটিস সবচেয়ে বেশি হয়। সাধারণত ঠান্ডা ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণে ফ্যারিনজাইটিস হয়।
২. ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকেও ফ্যারিনজাইটিস হয়। বিশেষ করে স্ট্রেপ্টোকোকাস ব্যাকটেরিয়া থেকে বেশি হয়।
৩. যদি কোনো কারণে কেউ অতিরিক্ত ঠান্ডা-জাতীয় খাবার খায়, ঠান্ডা পরিবেশে থাকে সেক্ষেত্রে হতে পারে।
৪. খাদ্যগ্রহণ ও শ্বাস নেওয়ার সময় বিভিন্ন রোগজীবাণু শরীরের প্রবেশ করলে সেখান থেকে হতে পারে।
৫. যারা ধূমপান করে, ইনহেলার ব্যবহার করে অথবা যারা শুকনো বাতাস গ্রহণ করে—এসব ক্ষেত্রে ফ্যারিনক্সের মধ্যে বিভিন্ন রোগজীবাণু প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটালে ফ্যারিনজাইটিস হতে পারে।
লক্ষণ
ফ্যারিনজাইটিসের কারণে গলাব্যথা হয়, গিলতে কষ্ট হয়, গলায় অস্বস্তি হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাশি হয়, টনসিল ফুলে যায়, গলা লাল হয়ে যাওয়া, কখনো কখনো মৃদু জ্বর হয়। ফ্যারিনজাইটিস বেশি হলে গলার লিম্ফনোড বা গ্রন্থি ফুলে যায়।
চিকিৎসা
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, ফ্যারিনজাইটিস যেসব কারণে হয় সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন: যারা ইনহেলার ব্যবহার করেন তাদের ইনহেলার ব্যবহারের পর ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিতে হবে, সঠিকভাবে কুলি করতে হবে। ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, ঠান্ডা-জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না, ঠান্ডা পরিবেশে না যাওয়া কিংবা গেলেও পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরিধান করতে হবে। লবণ পানি দিয়ে গার্গল করা, প্রতিদিন ওরাল হাইজিন মেনে চলার অভ্যাস করলে ফ্যারিনজাইটিস সংক্রমণ কম হবে।
আর যদি কেউ ফ্যারিনজাইটিস আক্রান্ত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ভাইরাস নাকি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে হয়েছে সেটি নিশ্চিত হয়ে সে অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হলে উপসর্গভিত্তিক ওষুধ দিতে হয় রোগীকে। ব্যথা বা জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। এ ছাড়া হালকা গরম পানির সঙ্গে এক চামচ করে মধু, লেবুর রস, তুলসি পাতা রস মিশিয়ে অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পরপর খেলে রোগী আরামবোধ করে। ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। যদি ৭ দিনেও ভালো না হয়, তীব্র ফ্যারিনজাইটিস হলে রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে। একইসঙ্গে যেসব কারণে ফ্যারিনজাইটিস হয়ে সেসব থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি মুখের যত্ন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস করতে হবে।


