কক্সবাজারে এলপিজি স্টেশনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ অটোরিকশা চালকের মৃত্যু
কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে দগ্ধ একজন মারা গেছেন।
আজ রোববার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবু তাহের পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন।
তার বড় ছেলে মো. সোহেল দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কলাতলীর প্রবেশমুখে ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনে’ এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার ওই ছয়জনের মধ্যে আবু তাহেরসহ তিনজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে শুক্রবার তাকে ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের রেজিস্ট্রার ডা. আশফাকুল আসিফ জানান, আবু তাহেরের শ্বাসনালিসহ শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
আবু তাহেরের ভাতিজা আবু বক্কর বাবু জানান, ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে তার চাচা পরিবার নিয়ে টেকনাফের কাটাবনিয়া থেকে কলাতলী এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন।
দ্য ডেইলি স্টারকে বাবু বলেন, ‘গ্যাস লিকেজের খবর শুনে চাচা ঘটনাস্থলে দেখতে যান। হঠাৎ আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে ও তিনি দগ্ধ হন। চার দিনের মধ্যেই তিনি মারা যান।’
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্যাস লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে লিকেজ হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. এ মান্নান ডেইলি স্টারকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা পুলিশ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
স্টেশনটির অগ্নি-নিরাপত্তা অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।