বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রী

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে একজন অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য রিপোর্টের নিজস্ব প্রতিবেদক অভিশ্রুতি শাস্ত্রী।

বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন দ্য রিপোর্টের প্রধান প্রতিবেদক গোলাম রব্বানী।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিশ্রুতির সহকর্মী ও বন্ধুরা তার মরদেহ শনাক্ত করেন।

'আমরা জানতে পেরেছি ওই ভবনের একটি রেস্টুরেন্টে তিনি তার এক বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। গতকাল রাত থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল এবং আমরা তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না', বলেন তিনি।

বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের মর্গে এক হিন্দু নারীর মরদেহ আছে।

রব্বানী বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের হাতে থাকা লালসুতো (মৌলিসুতো) দেখে অভিশ্রুতিকে শনাক্ত করি।'

তিনি জানান, অভিশ্রুতির পরিবারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি। কারণ আমাদের কাছে থাকা তার পরিবারের একমাত্র নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

গোলাম রব্বানী আরও বলেন, ইডেন মহিলা কলেজের রাজিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন অভিশ্রুতি। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

অভিশ্রুতি বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায়। তিনি ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতদের মধ্যে আছেন দ্য রিপোর্টের সাবেক ভিডিও এডিটরও

এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আছেন তুষার হাওলাদার, যিনি দ্য রিপোর্টের মাল্টিমিডিয়া বিভাগে ভিডিও এডিটর হিসেবে কাজ করতেন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা তুষার সবশেষ স্টার টেকে কাজ কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গ থেকে তুষারের মরদেহ নিতে এসে দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানান তার বাবা দীনেশ হাওলাদার।

তিনি বলেন, গতকাল বাংলামোটরের অফিস থেকে বের হওয়ার পর বেইলি রোডে খেতে যান তুষার। এরপর আর তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। আজ সকালে পুলিশের কাছ থেকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

তুষারের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে।

উল্লেখ্য, বেইলি রোডের এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন।