ঝড়-বৃষ্টিতে জয়পুরহাটের ৮২১ হেক্টর জমির আলু নষ্ট, ক্ষতির মুখে জামালপুরের ভুট্টা চাষি
উত্তরবঙ্গের জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলায় গত চার দিনের বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দুই জেলায় কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
এর মধ্যে কেবল জয়পুরহাটে দুই হাজার ৮২৮ জন আলু চাষির ৮২১ দশমিক ৬৫ হেক্টর আলু নষ্ট হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
গত চার দিনে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
গত বুধবার থেকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে দুই জেলায় এক হাজার ৫১৩ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে ৮৮৭ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা চার হাজার ৯৩৯ জন।
আলু ছাড়াও জয়পুরহাটে ১৫ দশমিক ১২ হেক্টর জমির গম নষ্ট হয়েছে, ভুট্টা নয় দশমিক ১৯ হেক্টর, খিরা এক দশমিক ৯৪ হেক্টর, শাক-সবজি পাঁচ দশমিক ৯৩ হেক্টর ও এক দশমিক ২৪ হেক্টর জমির কলা নষ্ট হয়েছে।
অধিদপ্তরের মতে, জয়পুরহাট সদর, আক্কেলপুর, কালাই, ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবি উপজেলায় ২০ হাজার ৮৫ টন ফসল নষ্ট হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
যোগাযোগ করা হলে জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আজ (সোমবার) একটি মিটিং হয়েছে। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কিছু বরাদ্দ দেয়, তাহলে আমরা তালিকা ধরে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করব।’
এদিকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষক।

‘প্রবল বাতাস ও পানির কারণে আমার দুই বিঘা জমির প্রায় সব ভুট্টা গাছ মাটিতে পড়ে গেছে,’ বলেন উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম।
একই এলাকার গমচাষি শুক্কুর আলী জানান, ফসল কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে তাদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা ও ১২০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষ হয়েছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, মাদারগঞ্জে প্রায় ৫২০ হেক্টর জমির ভুট্টা ও ১০ হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
‘যেসব ভুট্টা গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে, সেগুলো সাইলেজ করে বিক্রি করলে কৃষকেরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন। বর্তমানে ভুট্টা চাষিদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। আগামী বছরে প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন,’ যোগ করেন তিনি।