ঈশ্বরদীর ১০৭ বিঘার রেশম বীজাগার এখন প্রায় পরিত্যক্ত

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১০৭ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ৬৪ বছরের পুরোনো সরকারি রেশম বীজাগারটি এখন ধ্বংসের মুখে। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

খামার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের করুণ দশা শুরু হয়। একসময় এখানে ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শতাধিক শ্রমিক কাজ করতেন। বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মকর্তা ও একজন নৈশপ্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আলহাজের মোড় এলাকায় ১০৭ বিঘা জমিতে ঈশ্বরদী রেশম বীজাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ৫৯ বিঘা জমিতে তুঁত গাছ রোপন করা হয়। বাকি ৩৮ বিঘা জমিতে কার্যালয়, আবাসিক ভবন, রেশম পোকা পালন ঘর, তাঁতশালা, চারটি পুকুরসহ মোট ১৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রেশমকীট পালনের ঘর, গুটি উৎপাদন কক্ষ, সুতা উৎপাদন ইউনিট ও পরীক্ষাগার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় গাছ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে।

ishwardi-reshom-farm-photo-7.jpg
ঈশ্বরদী রেশম বীজাগারের বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত থেকে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ছবি: আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু/ স্টার

বীজাগারের নৈশপ্রহরী মো. ইনসাফ আলী বলেন, 'এত বড় এলাকা একা পাহারা দেওয়া অসম্ভব। তবুও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।'

বীজাগারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বীজাগারের মাত্র ১১ বিঘা জমিতে তুঁত গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। বাকি বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত থেকে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

ঈশ্বরদী রেশম বীজাগারের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. খোকন আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ খামারের মূল উদ্দেশ্য ছিল রেশম পোকা পালন করে গুটি উৎপাদন। এই গুটি থেকে রেশম সুতা তৈরি করা হয়। কিন্তু দক্ষ জনবলের অভাব ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না থাকায় গত সাত বছর ধরে রেশম পোকা পালন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে আমরা শুধু তুঁত গাছের চারা উৎপাদন করছি, যা দেশের বিভিন্ন রেশম খামারে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এত বড় একটি স্থাপনায় আমরা রেশন গুটি উৎপাদন করতে পারছি না।'

ishwardi-reshom-farm-photo-6.jpg
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঈশ্বরদী রেশম বীজাগারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ছবি: আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু/ স্টার

সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালের পর থেকে অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার কারণে লোকসানে পড়ে। বকেয়া বেতন নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। ২০১৮ সালে বেতন পুরোপুরি বন্ধ হলে কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা চলে যান। এরপর থেকেই বীজাগারটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। অবহেলার কারণে প্রায় ৫০ হাজার তুঁতগাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখান থেকে উৎপাদিত রেশম গুটি ও সুতা একসময় রাজশাহীর সিল্ক কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা হতো এবং অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। কিন্তু সরকারি উদ্যোগের অভাব আর অবহেলায় সম্ভাবনাময় এই খাতটি এখন বিলীন হওয়ার পথে।