অপারেশন এস ড্রাইভ: ঘোষণা দিয়ে সিএমপির বিশেষ অভিযান, ফলাফল ‘শূন্য’
একের পর এক অপরাধমূলক কার্যক্রম ও গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনার পর ঘোষণা দিয়ে বিশেষ অভিযানে নেমে সমালোচনার মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রোববার দিবাগত রাতভর অভিযান চালিয়েও কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র।
কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় চট্টগ্রামভিত্তিক স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভারী অস্ত্র দিয়ে দ্বিতীয় দফায় গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পিস্তল, এসএমজি ও রাইফল উঁচিয়ে প্রায় ১৫ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি তাতে।
সূত্র জানিয়েছে, সে সময় বাড়ির ভেতরেই পুলিশ অবস্থান করছিল।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই বাড়ি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা একইভাবে হামলা চালায়।
মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা ঘটনাটি সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাত ১১টায় হঠাৎ সংবাদ সম্মেলন ডাকে সিএমপি।
দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নগরীর ১৬টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
অপরাধীদের ধরতে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী অপারেশন ‘এস ড্রাইভ’ নামে অভিযানের ঘোষণা দেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়েই অভিযানে নামে পুলিশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে পুলিশ ৪১ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারী রয়েছে। এছাড়া, ৪৬৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করেছে।
চিহ্নিত অপরাধীরা নাগালের বাইরে থেকে যাওয়ায় ‘ঘোষণা দিয়ে অভিযান’ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এতে নিজেদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যেখানে গোপনে অভিযান পরিচালনা করেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না, সেখানে ঘোষণা দিয়ে, মিডিয়া সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো ‘লোক দেখানো কার্যক্রম’ ছাড়া কিছুই না।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার মত, অধিকাংশ অপরাধের পেছনে রয়েছেন সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ। তারা আরও জানান, ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ানটেড আসামি সাজ্জাদ দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বাইরে বসেই নিয়ন্ত্রণ করছেন অপরাধ জগৎ। তার অনুসারীরাই চাঁদা না পেয়ে গুলি চালাচ্ছে। নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজান থানা এলাকায় সাজ্জাদের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। আধিপত্য ধরে রাখতে নিজেরা প্রতিপক্ষকে খুন করছে, আবার কখনো ভাড়াটে খুনি হিসেবে হত্যা করছে।
সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ১১টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সাজ্জাদ ও তার অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাকলিয়ায় ডাবল মার্ডার, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় সরোয়ার হোসেন বাবলাকে গুলি করে হত্যা।
তবে ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর মতে ঘোষণা দিয়ে অভিযান পরিচালনা ‘এক ধরনের কৌশল’।
তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা আগেই অভিযানের বিষয়ে জানলে স্থান পরিবর্তন কিংবা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে। এতে পুলিশের পক্ষে তাদের সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গ্রেপ্তারের জন্য শনাক্ত করার নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।’
অভিযান সফল হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের এই কৌশলে প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছি। শিগগির সফলতা পাব আমরা।’