ঝিনাইদহে পাম্পে তেল নিতে আসা ছাত্রনেতাকে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝিনাইদহ

শনিবার ঝিনাইদহ সদর এলাকায় পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে গিয়ে মারধরে এক ছাত্রনেতার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত নীরব আহমেদ (২৫) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুড়গাছা গ্রামের আলিমুর রহমানের ছেলে।

নীরবের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নীরব সম্মুখ সারিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়ার বকুলতলা এলাকায় মেসে ভাড়া করা থাকতেন।

ঝিনাইদহ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পেট্রোল পাম্পের তিন কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন—বরাইখালি গ্রামের নাসিম হোসেন, আরুয়াকান্দি গ্রামের রামিজুল ইসলাম এবং দক্ষিণ কাস্তাগ্রা গ্রামের দাউদ হোসেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে নীরব মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে ঝিনাইদহ-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে যান।

সেখানে তিনি যে পরিমাণ তেল চান কর্মচারীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে তাকে মারধর করা হয় এবং গুরুতর অবস্থায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সব্যসাচী পাল সুমন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, নীরবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ‘তার পিঠ ফুলে গিয়েছিল এবং কোমরের পেছনে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

ওই চিকিৎসক বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর রাত ৯টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে ওসি জানান।

এর আগে শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহের ৩৩টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে প্রায় ২৮টিতে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তীব্র সংকট তৈরি হয়। জেলা শহরের কাছে মাত্র দুটি ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছিল।