সাভারে সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও এক ঘণ্টা কলম বিরতি
সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বেসরকারি টেলিভিশন দেশ টিভির সাভার প্রতিনিধি দেওয়ান ইমনকে শারীরিক হেনস্তা ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের স্থানীয় সাংবাদিকরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাভার মডেল থানার সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয়সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সাংবাদিকরা।
মানববন্ধন শেষে সাভার মডেল থানার ভেতরে এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন সাংবাদিকরা।
সাভার প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা বলেন, ‘একজন গণমাধ্যমকর্মীর কাজ তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করা। প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে প্রতিবাদ জানানোসহ উপযুক্ত মাধ্যমে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।’
‘কিন্তু অনুসন্ধান করার কারণে কিংবা সংবাদ প্রকাশ করার কারণে সন্ত্রাসী স্টাইলে একজন সরকারি কর্মকর্তা একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা করবেন, তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়; বরং এমন কর্মকাণ্ড স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টার শামিল,’ বলেন তিনি।
হামলার পর গতকালই অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাজমুল হুদা।
যোগাযোগ করলে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস, ট্রাফিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের মেরিট বিবেচনায় সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গত কয়েকদিন ধরে সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের দূর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছিল। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রনালয় একটি তদন্ত কমিটি করেন। বিষয়টি তদন্তে গত রোববার আইন মন্ত্রনালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি দল সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শনে আসেন।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে পাবলিক লাইব্রেরির বিপরীত পাশে উপস্থিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সামনে ৩০-৩৫ জনের দল নিয়ে দেওয়ান ইমনকে হেনস্তা ও তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন জাকির। ডেইলি স্টারের হাতে আসা একটি ভিডিওতে এমন চিত্র দেখা গেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে একাধিকবার অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ও জেলা রেজিস্ট্রার মুনশী মোকলেছুর রহমান মুঠোফোনে কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
