শিশুসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা: যা বলছেন স্বজন-প্রতিবেশীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তিন শিশু ও তাদের মাসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার হাসান মোল্লার ছেলে।

নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তাদের সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক রসুল (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক। প্রায় ২০ বছর আগে শারমিন ও ফোরকানের বিয়ে হয়। বছরখানেক ধরে সন্তানসহ তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে থাকতেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই বাড়িতেই হত্যার ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুর
কাপাসিয়ার ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। ছবি: স্টার

প্রতিবেশী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাত মোল্লা গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পাইকান্দি এলাকার বাসিন্দা।

শারমিনের চাচা উজ্জ্বল মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফোরকান প্রায়ই শারমিনকে মারধর করতেন। শারমিন এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় ৬ মাস আগে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে গেলেও, পরে তাকে আবার স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। ফোরকান বিভিন্ন সময়ে টাকা-পয়সা চাইতেন, যা নিয়ে পরিবারে কলহ চলছিল।'

তাদের আরেক স্বজন শাহীন বলেন, 'ঘটনার রাতে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানান যে তিনি বাড়ির সবাইকে হত্যা করেছেন এবং বিষয়টি জানাতে বলেন। পরে মিশকাতের স্ত্রী গোপালগঞ্জে ফোরকানের শ্বশুরবাড়িতে বিষয়টি জানান।'

শারমিনের বোনের ছেলে স্থানীয় ভাওয়াল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান বিশ্বাস ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিহত রসুল আমার মামা ছিলেন। আমি আর মামা একসঙ্গে গাজীপুরে থাকতাম। মামাকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গতকাল কাপাসিয়া এলাকায় নিয়ে আসেন ফোরকান।'

নিহত মিম স্থানীয় রাউৎকোনা মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মারিয়া দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে।

ওই বাড়ির মালিক মনির হোসেনের স্ত্রী লুৎফুন্নাহার ডেইলি স্টারকে জানান, তার স্বামী সিঙ্গাপুরে থাকেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, 'সকালে রান্নার সময় শারমিনের বোনের কান্নার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি শারমিন নতুন জামা পড়ে জানালায় ঝুলে আছে, শ্যালক খাটে এবং তিন মেয়ে মেঝেতে পড়ে আছে।'

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই ৫ জনকে জবাই করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, 'পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। কীভাবে পাঁচজনকে একসঙ্গে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। নেশাজাতীয় দ্রব্য বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।'

জানতে চাইলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কাপাসিয়ায় ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।'