‘অপহরণ’ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান: পুলিশ
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা জিসান আহমেদ অপহৃত হননি। এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে পুলিশ জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপন করেছিলেন।
জিসান আহমেদ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি কুমিল্লা (পশ্চিম) জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ মে জিসান দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করেন। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার গর্ভপাত করানো হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করার টালবাহানা থেকে বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে যান। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে তিনি তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান।
পুলিশ আরও জানায়, জিসানের উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ এনে জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় মোট আসামি চারজন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ পড়ার পর জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তার বড় ভাই রাসেল আহমেদ। পরিবারের দাবি ছিল, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৯ মিনিটে জিসান সর্বশেষ হোয়াটসঅ্যাপে সক্রিয় ছিলেন। এরপর তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজন ও পরিচিতজনেরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
জিসান নিখোঁজ হওয়ার পর ‘অপহরণের’ অভিযোগ তুলে উদ্বেগ জানিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘গতকাল রাতে (১১ জুন) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান আহমেদ অপহৃত হয়েছেন। ১৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত উদ্ধার না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে? অতি দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তার আপনজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও জিসানকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতি দেওয়া হয়।
