রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টে শুনানির পেপারবুক প্রস্তুত

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বহুল আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। যেকোনো দিন হাইকোর্টের নির্ধারিত বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শুরু হবে। 

আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও সংশ্লিষ্ট আপিলের শুনানিতে এ ধরনের পেপারবুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে নিম্ন আদালতের রায়, আদেশ, আসামিদের জবানবন্দি ও মামলার সব ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ সংকলিত থাকে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, পেপারবুকটি বিজি প্রেসে মুদ্রণ শেষে আজ হাইকোর্টে পৌঁছেছে। এখন এটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়কে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৪ জুন নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপিল করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। হাইকোর্ট তাদের আপিল গ্রহণ করে শুনানির কার্যক্রম শুরু করেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হাইকোর্ট এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর যৌথ শুনানি করবেন।

গত ৭ জুন ঢাকার নারী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড এবং এই অপরাধে সহায়তা করার জন্য তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকেন্দ ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালত নির্দেশ দেন যে, জরিমানার এই অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনি উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জেলা কালেক্টর তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে বুঝিয়ে দেবেন।

পল্লবী এলাকার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে গত ১৯ মে প্রতিবেশী সোহেলের বাড়ি থেকে শিরশ্ছেদ করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।