জুলাইয়ে রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় দুজনকে হত্যা এবং আরও দুজনকে গুলি করার মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ সাবেক ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগামীকাল রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ের যুক্তি তর্কের শুনানি শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায়ের জন্য ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল ২৮ জুন দিন ধার্য করেন।
অভিযুক্ত অন্য চার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার।
গত বছরের ৬ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে বর্তমানে শুধু চঞ্চল চন্দ্র সরকারই কারাগারে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আরেকটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাবিবুর রহমানকে ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ষড়যন্ত্র, অপরাধে সহযোগিতা ও উস্কানি দেওয়া, অপরাধ প্রতিরোধ বা শাস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি (কমান্ডিং কর্মকর্তার দায়) সহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পুলিশের অভিযান চলাকালে ছয় বছর বয়সী শিশু মুসা গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়। বুলেটটি ওই শিশুর শরীর ভেদ করে তার দাদি মায়া ইসলামকে বিদ্ধ করে। চিকিৎসার পর শিশু মুসা বেঁচে গেলেও মায়া ইসলাম মারা যান।
একই ঘটনায় মো. নাদিম নামের আরেক ব্যক্তিও গুলিতে নিহত হন।
সেদিনেরই আরেকটি পৃথক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে দেখা যায়, আমির হোসেন নামে এক তরুণ একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশ ধরে ঝুলছেন। তিনি যখন ওই অবস্থায় বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন, তখন খুব কাছ থেকে দুজন পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছেন।