হাসানুল হক ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ, সুপ্রিম কোর্টে আপিল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দায়ের করা আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষ সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম জানান, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই আপিল দায়ের করা হয়েছে। তার যুক্তি, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এই সাজা অপর্যাপ্ত।

তামিম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আপিলে ১১টি যুক্তি উপস্থাপন করেছি এবং আইনের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার জন্য আবেদন করেছি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর খালাস পাওয়া কিছু অভিযোগের বিরুদ্ধেও চ্যালেঞ্জ করেছে এবং সেসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতে, অপরাধের গুরুত্ব, হামলার মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাজা হওয়া উচিত।

তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ ছিল, ইনু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, জুলাই অভ্যুত্থান দমনের উপায় নিয়ে পরামর্শ দিতেন এবং কারফিউ জারি ও বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতেন।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দিয়েছে যে, ট্রাইব্যুনালের এই পর্যবেক্ষণগুলোর সঙ্গে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তামিম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বেসামরিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি নজিরগুলোর ওপরও নির্ভর করেছে। একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতার প্রভাব অধীনস্থদের অপরাধ করতে উৎসাহিত করতে পারে।

হানিফের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আরও তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ এবং চারজনের জন্যই সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে।

তামিম জানান, হানিফ জুলাই অভ্যুত্থান দমনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ ও তা সহজতর করেছেন এবং একজন জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন।

সরকারি কৌঁসুলি বলেন, তিনি একজন বেসামরিক নেতা ছিলেন এবং টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে অধীনস্থদের দিয়ে নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছেন।

তামিম জানান, রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দিয়েছে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফের অবস্থান জুলাই অভ্যুত্থান মামলায় দণ্ডিত অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতোই।

তিনি অভিযোগ করেন, হানিফ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সভায় অংশ নেন, নীতিগত সিদ্ধান্তে সমর্থন দেন এবং পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ফোন করে নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এসব কথোপকথনের রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে।

তমিম বলেন, আমরা হানিফ ও অন্য সকল অভিযুক্তের জন্য আইনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছি।

আগামী ৭ অক্টোবর বিবাদীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।