নির্বাচনী ডামাডোলে চাপা পড়া হিজড়াদের ‘স্বীকৃতি’ পাওয়ার স্বপ্ন
‘কোনো সরকারই আমাদের কথা আলাদা করে ভাবে না। ২০২৬ সালে এসেও আমরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের নিয়ে কারো কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু এরপরেও আমরা নিয়মিত ভোট দিই। কারণ এটা আমাদের নাগরিক অধিকার। কেউ আমাদের কথা ভাবুক বা না ভাবুক, এদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত থাকব না।’
দ্য ডেইলি স্টারকে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কুমারবাড়িলা গ্রামের বাসিন্দা মীম হাজেরা (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের একমাত্র হিজড়া ভোটার। অন্য সবার মতো তিনিও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
মীম বলেন, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। গিয়ে শুনেছি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু এবার সেটা হবে না বলেই মনে হচ্ছে। তাই এবার যথাসময়ে কেন্দ্রে গিয়ে আমার ভোট আমি দেবো।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১২ হাজার ৬২৯ জন। যদিও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
এছাড়া, দেশে মোট সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ হলেও জনশুমারি অনুযায়ী হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার নির্বাচনে সারা দেশে মোট হিজড়া ভোটারের সংখ্যা এক হাজার ২২০। তাদের মধ্যে ঢাকায় হিজড়া ভোটার ১১৪ জন। দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টিতেই হিজড়া ভোটার আছে। বাকি ২৮ আসনে নেই।
দেশের ৭টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বেশিরভাগ দলই হিজড়া জনগোষ্ঠীর কথা আলাদা করে উল্লেখ করেনি ইশতেহারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে ‘সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র’ অধ্যায়ে হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কথা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রকৃত হিজড়া শনাক্ত করে পুনর্বাসন করা হবে ও তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহারে ‘রাষ্ট্রগঠন’ অধ্যায়ের বৈষম্যবিরোধিতা ও ন্যায্যতা অংশে বলা হয়েছে, তৃতীয় লিঙ্গ/হিজড়া জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অর্থবহ ও সম্মানজনক প্রতিনিধিত্ব, ভোটার নিবন্ধন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় পূর্ণ, বৈষম্যহীন অভিগম্যতা নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপির ইশতেহারে ‘বৈষম্যহীন আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা’ অধ্যায়ের সামাজিক সুরক্ষা অংশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহারের তৃতীয় দফায় বলা হয়েছে, সব ধরনের সামাজিক বৈষম্য, বঞ্চনা ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে আইনগত সুরক্ষা ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করে সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদার সমাজ গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ২৮তম দফায় বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভোটাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
হিজড়াদের নিয়ে কাজ করা একটি মানবাধিকার সংগঠনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যুগের পর যুগ ধরে হিজড়ারা অবহেলিতই থেকেছে। তাদের কথা কেউই ভাবে না। ইশতেহারে হিজড়াদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ থেকে বোঝা যায় যে, তাদের জন্য আলাদা করে কোনো পরিকল্পনা কারো নেই। অথচ তারাও এদেশের নাগরিক।’
একাধিক হিজড়া বসতিতে গিয়ে জানা গেছে, প্রার্থীরা তাদের কাছে যাচ্ছেন না। তা ছাড়া প্রার্থীদের কারও ইশতেহারেও হিজড়াদের কথা আলাদা করে উল্লেখ নেই।
এখনো কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান ঢাকায় বসবাসরত হিজড়া তানিশা ইয়াসিন চৈতি (৩৪)। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি যে তারা হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কী করবে।’
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে কী প্রত্যাশা, জানতে চাইলে চৈতি বলেন, ২০১৩ সালে একটি নোটিফিকেশন জারি হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় একটি আইন প্রণয়নের কাজ অনেকদূর এগিয়েছিল।
কিন্তু সেটি আর সংসদে বিল আকারে পাস হয়নি। আমাদের একটাই মূল দাবি ছিল—রাষ্ট্রীয় ভিত্তিসম্পন্ন একটি শক্ত আইন। যাতে করে আমরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব সুযোগ সুবিধা পেয়েছি, তা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে।
তিনি আরও বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় প্রতিবছর যে বাজেট বরাদ্দ থাকে, তা হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য পুনরায় যথাযথভাবে বরাদ্দ দেওয়া দরকার। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীতিমালার অভাব। পলিসি না থাকায় আমাদের কমিউনিটির মানুষ বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ে। তাই আমাদের মূল দাবি—একটি স্পষ্ট পলিসি।
হিজড়াদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা লাইট হাউস গত বছরের অক্টোবরে এক প্রতিবেদনে জানায়, হিজড়াদের জন্য জনপ্রতি মাসিক ৬৫০ টাকা ভাতা চালু করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত এই সেবার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে তিন হাজার।
অন্যদিকে হিজড়াদের মধ্যে একটি বড় অংশ ভোটারই হতে পারেননি। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ পুরুষ, কেউ কেউ নারী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। ভোটার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত জটিলতায় তারা হিজড়া ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারেননি বা পূর্বের নিবন্ধন পরিবর্তন করতে পারেননি।
চৈতি জানান, অনেক হিজড়া নারী হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। আবার নতুনদের বড় একটি অংশ পুরুষ ভোটার তালিকায় রয়েছে।
তার মতে, রাষ্ট্রীয়ভাবে সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ময়মনসিংহে বসবাসরত হিজড়া জয়িতা তনু (২৯) ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ময়মনসিংহ জেলায় যারা নির্বাচন করছেন, তারা কেউ আমাদের কাছে আসেননি, খোঁজখবর নেননি।’
ভোটদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও ভোটার হলেও ভোট দেওয়ার পরিবেশ ও আগ্রহ এখনো তৈরি হয়নি। ভোট দেওয়ার পরিবেশ যদি নিরাপদ ও উপযোগী মনে করি, তাহলে যাবো—না হলে নয়।’
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি দাবি কী—এমন প্রশ্নে তনু বলেন, ‘প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো সংবিধানে হিজড়া জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। মৌখিক স্বীকৃতি থাকলেও সংসদে কোনো আইন পাস হয়নি। আমাদের জন্য আলাদা আইন দরকার। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনি সেবাসহ আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে।’
ভোটার তালিকায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কম থাকার পেছনে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেন তনু। বলেন, আদমশুমারি ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হিজড়া পল্লীগুলোতে যাননি। অথচ আমাদের এই পল্লীতেই প্রায় ৪০ জন হিজড়া বসবাস করেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছিল—ভোটার তালিকা তৈরির সময় হিজড়া জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি যুক্ত করতে। কিন্তু সেই উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, হিজড়াদের অনেকেই অল্প বয়সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন। বাবা-মার আইডি, জন্মনিবন্ধন বা বিদ্যুৎ বিল দেখাতে না পারায় অনেক হিজড়া এখনো এনআইডি করাতেই পারেননি।
তনু যে পল্লীতে বসবাস করেন, সেখানে ৪০ হিজড়ার মধ্যে ১১ জন হিজড়া ভোটার। বাকিরা পুরুষ কিংবা নারী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত।
এবারের জাতীয় নির্বাচনে রংপুর–৩ আসন (সদর ও সিটি করপোরেশনের আংশিক এলাকা) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছিলেন হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারা ইসলাম রানী। কিন্তু প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে রোববার দুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে আমি রংপুর–৩ আসন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’
‘আমরা কেউ সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা মূলধারায় মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ চাই’, বলেন তিনি।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর–৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৮১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেও, ঈগল প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ভোট পেয়ে রানী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
তবে কিছুদিন আগে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘এবার নির্বাচন করা নিয়ে আগে থেকেই একটা ভয় কাজ করছিল। আগে নির্বাচনের সময় রাত ১-২টা পর্যন্ত বাইরে কাজ করেছি, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্ভয়ে কাজ করেছি। এবার কেন জানি ভয় লাগছিল। একটা আতঙ্ক ভাব ছিল। আগেও অস্ত্র-সন্ত্রাস ছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ছিল। এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং বাহিনীগুলো নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না মনে হয়।’
তবে প্রার্থীরা সবাই ভালো এবং সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলে জানান রানী। রংপুর–৩ (সদর) আসনভুক্ত এলাকায় প্রায় ১০০ জন হিজড়া বাস করে বলে জানান রানী। তবে হিজড়া ভোটার সংখ্যা ৫ জন।
রানী বলেন, ‘২০১৮ সালে ভোটার তালিকায় হিজড়া ক্যাটাগরি যোগ করা হয়। কিন্তু হিজড়া ভোটার হতে হলে নানা জটিলতা আছে। যে কারণে আমরা হিজড়ারা এই জটিলতায় যেতে চাই না সাধারণত। হিজড়া ভোটার হতে হলে অন্তত একটা প্রমাণ দেওয়া লাগে। মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগে। এটার জন্য আবার জেলা সিভিল সার্জন ও সমাজসেবা অফিস মিলে একটা মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। তারপর তারা যাচাই-বাছাই করে। একজন হিজড়াকে বিবস্ত্র করে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া খুবই অমানবিক। এটা অসম্মানজনক এবং অনেকক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন। কোনো পুরুষ বা নারী ভোটারকে তো বিবস্ত্র হয়ে লিঙ্গ পরিচয় দিতে হয় না।’
‘আমরা আসলে বুঝতে পারছি না বা এখনো পরিষ্কার না যে সামনে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে’, বলেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো একমাত্র এই হিজড়া প্রার্থী।
হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটার নিবন্ধনে অনাগ্রহের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ভয় ও হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী। তিনি বলেন, অনেক হিজড়ার জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের জন্মগত পুরুষ পরিচয় অনুযায়ী নাম ও লিঙ্গ উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে হিজড়া পরিচয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে গেলে তাদের নানা প্রশ্ন ও অপমানের মুখে পড়তে হয়।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যার এনআইডিতে নাম ছিল শহীদুল আলম, পরে হয়তো তিনি শাহিদা হয়েছেন। হিজড়া হিসেবে আবেদন করলে তাকে প্রমাণ করতে বলা হয়—তিনি “আসল” হিজড়া কি না। এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। এতে তাদের আগ্রহ একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। এই ঝামেলা এড়াতেই অনেকে পুরোনো এনআইডিই বহাল রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, এনআইডি থাকলেও হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার আলাদা কোনো কার্যকর সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নতুন করে পরিচয় সংশোধনের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ নেই।
তার মতে, এটি পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে এই জনগোষ্ঠী সম্পর্কে ভুল ধারণা ও পর্যাপ্ত ওরিয়েন্টেশনের অভাব রয়েছে। ভোটার নিবন্ধনের সময় গণসচেতনতা কার্যক্রম বা সরাসরি হিজড়া জনগোষ্ঠীর কাছে যাওয়ার উদ্যোগও ছিল না।
‘আমার কোনো দল-সংসার-পিছুটান নেই, অবহেলিতের পাশে থাকাই লক্ষ্য’