জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

আজ বুধবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করার পাশাপাশি এই সনদ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রজাতন্ত্রের সংবিধানে এই ধরনের ‘জুলাই সনদের’ কোনো বিধান নেই। যেহেতু এতে গণভোট এবং সংসদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, তাই এই সনদটি অবশ্যই অবৈধ ও অসাংবিধানিক।

তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্র রোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অন্যতম প্রধান সংস্কার উদ্যোগ হলো এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’।

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এই সনদে সই করে। এতে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টির জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।

উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করা।

এছাড়া আছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন, নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর জনমত যাচাইয়ে একটি গণভোট আয়োজন করা হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় আগামী ২৭০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।