পুলিশের পুরোনো ইউনিফর্মে ফেরার উদ্যোগ
পুরোনো ইউনিফর্মে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। মাত্র তিন মাস আগে প্রায় ১৪১ কোটি টাকা খরচ করে ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হলেও পুলিশের অভ্যন্তরীণ জরিপে ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ সদস্যই পুরোনো ইউনিফর্মের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বর্তমান ইউনিফর্মে সন্তুষ্ট মাত্র ১ শতাংশেরও কম সদস্য। নতুন ইউনিফর্মের সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা এসেছে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের দিক থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলছেন, রাতের বেলা এই ইউনিফর্ম স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের কাছে আমাদের জরিপের ফল তুলে ধরব। সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নবগঠিত সরকার ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে প্রবর্তিত ইউনিফর্ম ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম নির্বাচনের সময় সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া ও তাদের মতামত উপেক্ষা করেছে। যে পোশাক দেওয়া হয়েছে তা অন্য সংস্থার ইউনিফর্মের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়, ফলে মাঠে পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া তড়িঘড়ি করে এই পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন না অধিকাংশ সদস্য।
এসব আপত্তির পাশাপাশি নতুন ইউনিফর্মের কাপড়ের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে শার্টের কাপড় চুক্তির শর্ত পূরণ করেনি। সুতার ঘনত্ব যেখানে ২০৫ জিএসএম (±৫) হওয়ার কথা ছিল, পরীক্ষায় তা পাওয়া গেছে ১৯৩ জিএসএম।
দীর্ঘ সময় বাইরে ডিউটি করা পুলিশ সদস্যদের জন্য কাপড়ের ঘাম শোষণের ক্ষমতা (উইকিং ক্যাপাসিটি) থাকা অত্যন্ত জরুরি। চুক্তিতে ৬-১০ সেন্টিমিটার উইকিং ক্যাপাসিটির কথা থাকলেও পরীক্ষায় তা পাওয়া গেছে প্রায় ৪.৫ সেন্টিমিটার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ সেন্টিমিটারের নিচে হলে তা সক্রিয় আউটডোর ডিউটির জন্য অনুপযুক্ত, কারণ এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় এবং ক্লান্তি বাড়ে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ডিউটির সময় এই ইউনিফর্ম বেশ অস্বস্তিকর।
এই কাপড় সরবরাহ করেছিল নোমান গ্রুপ। মন্তব্যের জন্য নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সরবরাহের আগে আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে কাপড় পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তা টেন্ডারের সব শর্ত পূরণ করেছিল।
২০২৫ সালে নতুন ইউনিফর্মের জন্য ১৪১ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নোমান গ্রুপ কাজ পায় এবং ইতোমধ্যে কিছু কাপড় সরবরাহ করেছে। বড় শহরগুলোতে নতুন ইউনিফর্ম বিতরণ করা হলেও সব জেলায় এখনো পৌঁছায়নি।
ঠিক কতগুলো ইউনিফর্ম তৈরি হয়েছে বা কাপড়ের পেছনে কত টাকা ব্যয় হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (লজিস্টিকস ও অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউনিফর্ম আবার পরিবর্তন করা হলে সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না। নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দের আওতায় পুলিশ সদস্যদের প্রতিবছর নতুন ইউনিফর্ম দেওয়া হয়। গত বছর বিতরণ করা ইউনিফর্ম সেই বার্ষিক বরাদ্দেরই অংশ ছিল।