পঞ্চগড়ে জামিনে মুক্তির আধঘণ্টার মধ্যে আ. লীগ নেতার মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও

পঞ্চগড়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা। এর আগে অসুস্থ হলে কারাগার থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পঞ্চগড় কারাগারের জেলার আখেরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত হারুনুর রশিদ (৫৫) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার হাজেরাডাঙ্গা গ্রামের মৃত তলেব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ অক্টোবর অর্থ-সংক্রান্ত এনআই (নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট) অ্যাক্টের এক মামলায় হারুনুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে পঞ্চগড় কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় হারুনুরকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা ছিল।

জেলার আখেরুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকালে হারুনুর রশিদ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে কারা হাসপাতালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে ওইদিন বিকেলে দিনাজপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধানে হারুনুরকে দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাহিদ আকতার জুলিয়েট এনআই অ্যাক্টের মামলায় হারুনুরকে জামিন দেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় দায়ের করা আরেকটি মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন বিচারক।

কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ জামিনের আদেশ পায়। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ই-মেইলের মাধ্যমে জামিন আদেশ হাসপাতালে পাঠায় কারাগার কর্তৃপক্ষ। ৪টা ৮ মিনিটে হারুনুর রশিদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

পঞ্চগড় কারাগারের জেলার বলেন, বৃহস্পতিবার জামিনের আদেশ পাওয়ার পর দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেটি দিনাজপুর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেন তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া যায়।