হকার উচ্ছেদে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার অবৈধ হকার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ সকাল সাড়ে ১১টায় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। মহাসড়কটির উভয় পাশের ফুটপাতসহ সার্ভিস লেনের বড় অংশ দখলে রাখা সহস্রাধিক হকারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। ঈদে যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকে। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
ঈদের পর হকাররা আবার এখানে বসতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, বসতে পারবে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই হকারদের সার্ভিস লেন ও ফুটপাত ছাড়তে নির্দেশনা দিয়ে আসছিলাম, কিন্তু তারা শোনেনি। উচ্ছেদের পর তারা আর এখানে ফিরতে পারবে না। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’
ঈদের ঠিক আগে উচ্ছেদ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হকাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকার বলেন, ‘আমরা অবৈধভাবে ব্যবসা করি, এটা ঠিক। কিন্তু আর কয়েক দিন পরই ঈদ। এই অভিযান রমজানের আগে করলে ভালো হতো। অথবা আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে উচ্ছেদ করলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়তাম না।’
সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সার্ভিস লেনের বড় অংশ দখল করে ব্যবসা করে আসছিলেন সহস্রাধিক হকার। এর কারণে সার্ভিস লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো, চরম ভোগান্তিতে পড়তেন যাত্রী ও পথচারীরা।
সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হকারদের কারণে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুই পাশের সার্ভিস লেন ব্যবহারকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। হকার উচ্ছেদ আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটি একটি স্বস্তির বিষয়। তবে উচ্ছেদের পর হকাররা যেন আবার ফিরে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে।’
এর আগে গত সপ্তাহে সাভারের আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবৈধ হকার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। তবে উচ্ছেদের পর ওই দিন বিকেলেই হকাররা আবার সেখানে ফিরে আসেন।