উচ্ছেদ অভিযানে ইউএনওর সঙ্গে বিএনপি নেতার বাকবিতণ্ডা
ঢাকার সাভারে মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক বিএনপি নেতার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাকবিতণ্ডা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখাকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ধামশোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদের এই বাকবিতণ্ডা হয়।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইউএনও উপস্থিত পুলিশ সদস্যকে বলেন, ‘ওনাকে হাতকড়া দেন। সরকারি রাস্তা আটকানোর কারণে ওনাকে গ্রেপ্তার করা হলো। হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে গাড়িতে ওঠান উনাকে।’
এ সময় ডা. আসাদউল্লাহ ইউএনওকে বলেন, ‘শুনেন আমি রাখছি এটা (নির্মাণ সামগ্রী), সরায়ে দিমু। কিন্তু আপনি যেটা বলতেছেন, এটা কিন্তু একটু অনধিকার হয়ে যাচ্ছে।’
তখন ইউএনও বলেন, ‘কীসের অনধিকার? রাস্তা আটকানো সবার জন্যই অপরাধ।’
এই বাকবিতণ্ডার শুরু কীভাবে হয়েছে তা জানতে চাইলে ঘটনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়কের পাশে হকার ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছিলেন ইউএনও। ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদের মালিকানাধীন গনী জেনারেল হাসপাতালের সামনে মহাসড়কের পাশে খোয়া ও বালু রেখে চারতলা হাসপাতাল ভবনের উপরের দুইতলার নির্মাণকাজ চলছিল।
তারা জানান, অভিযানের সময় ডা. আসাদউল্লাহকে ডেকে এনে ইউএনও জানতে চান, কেন মহাসড়কের ওপর খোয়া ও বালু রাখা হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবাই রাখছে তাই আমিও রাখছি।’ একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এ বিষয়ে ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার হাসপাতালের চারতলা ভবনের উপরের দুতলার নির্মাণ কাজ চলছে। সেটারই নির্মাণ সামগ্রী হাসপাতালের সামনে রাখা ছিল।’
তিনি বলেন, ‘ইউএনও সাহেব নির্মাণ সামগ্রী সরাতে বলেন। আমি বলেছি সরিয়ে দিব। তারপরও তিনি আমাকে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছেন এবং আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। আমি ওনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি।’
ইউএনও সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি (ডা. আসাদউল্লাহ) মহাসড়কের অনেকাংশ দখল করে ইটের খোয়া ও বালু ফেলে রেখেছিলেন। আমি সেগুলো সরিয়ে নিতে বলেছি। একটু রাগারাগি করেছি।’
