যমুনা সেতুতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

টানা ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ। এর সরাসরি প্রভাবে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যাও বেড়েছে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে এবং এতে দুই কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন সেতু পার হলেও এখন সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সপ্তাহব্যাপী ছুটি শুরু হওয়ায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। আমরা ধারণা করছি, পোশাক শ্রমিকদের ঈদযাত্রা শুরু হলে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

যাত্রীর চাপ বাড়লেও যান চলাচল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো বিড়ম্বনার খবর পাওয়া যায়নি। ঈদযাত্রার এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে সিরাজগঞ্জ সংলগ্ন উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কগুলোতে প্রায় ৭৮০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন, যার মধ্যে ১৪৪ জন হাইওয়ে পুলিশের সদস্য।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদযাত্রায় যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও মহাসড়কে বর্তমানে কোনো যানজট নেই।

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে নির্মাণকাজ চললেও নতুন লেনগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বগুড়া-রংপুর রুটের যাত্রীরা নতুন চার লেনের সুবিধা ব্যবহার করছেন এবং রাজশাহী ও পাবনা রুটের যাত্রীরা দুই লেনের সুবিধা ব্যবহার করছেন।

হাইওয়ে ওসি জানান, আগের বছরগুলোতে হাটিকুমরুল পয়েন্ট—যেখান থেকে যানবাহন বিভিন্ন রুটে ভাগ হয়ে যায়, সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। তবে এখন নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জ দিয়ে যানবাহনগুলো তাদের গন্তব্যে অনায়াসে চলে যাচ্ছে, যা যানজট প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।