ঈদের ছুটিতে চায়ের রাজধানীতে পর্যটকদের ঢল
ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে চায়ের রাজধানীর প্রধান আকর্ষণগুলো এখন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
টানা সাত দিনের ছুটিতে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশ। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের গণ্ডি পেরিয়ে বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যন্ত প্রায় সব পর্যটন স্পটেই এখন দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে জেলাজুড়ে বিস্তৃত চা বাগান, ইকো-পার্ক ও বিভিন্ন রিসোর্টে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশীয় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত অবদানেই এবারের পর্যটক সমাগম ঘটেছে। পাশাপাশি, আগের ঈদ মৌসুমগুলোর তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মিফতা মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক জায়গা দেখেছি, তবে বাস্তবে কিছু স্থানে অতিরিক্ত ভিড় ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার চিত্র চোখে পড়েছে। তবে চা বাগানগুলোর পরিবেশ শান্ত ও সতেজ।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক সাহেদ আহমেদ বলেন, এখানকার চা বাগানের সবুজ আর শান্ত পরিবেশই প্রধান কারণ, যার জন্য আমরা বারবার ফিরে আসি।
মণিপুরী পল্লীতে কথা হয় জাহেদ আহমেদ ও হুসনা বেগমের সঙ্গে। প্রথমবার ঘুরতে আসা এই দম্পতি বলেন, আমরা মণিপুরী গ্রামগুলো ঘুরে এবং তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জেনে খুব আনন্দ পেয়েছি। এটি সাধারণ পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
হোসনা বেগম বলেন, আমরা নিরাপদ বোধ করেছি সবখানে। কারণ অনেক এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। এটি পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আত্মবিশ্বাস জোগায়।
শ্রীমঙ্গলের ছোট রিসোর্টগুলোতে সব ঘর পূর্ণ ছিল, আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানের শেষভাগ পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং কম থাকলেও ঈদের আগে তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
পর্যটন উদ্যোক্তা সেলিম আহমেদ বলেন, রমজানের শেষের দিকে পর্যটকেরা ফিরতে শুরু করেন। তবে, বড় রিসোর্টগুলোতে সম্পূর্ণ বুকিং হয়নি।
মৌলভীবাজারের পর্যটন খাত হাজারো পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন; এদের অনেকেই ঈদের ছুটির মতো মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
জেলার কমলগঞ্জ টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ এর ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমেদ বলেন, তুলনামূলকভাবে মন্দা সময়ের পর পর্যটকদের বর্তমান আগমন কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
শ্রীমঙ্গল চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর এবং হামহাম জলপ্রপাতের মতো প্রধান আকর্ষণীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য সমাগম হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটকরা চা বাগান, আদিবাসী গ্রাম এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত রিসোর্টগুলোর প্রতিও আকৃষ্ট হয়েছেন।
ঈদের এই মৌসুমে শ্রীমঙ্গল শহরে ব্যস্ত সময়ে তীব্র যানজটের কারণে পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তির মুখেও পড়তে হয়েছে।

এদিকে কিছু পর্যটক জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত পর্যটনকেন্দ্রের অভাবের কথা বলেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের সুবিধা স্থাপন করা হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং এই খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটবে।
পর্যটনের এই সময় ঘিরে প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভিড় ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা পুলিশের সমন্বয়ে পর্যটন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ছুটির পুরো সময়জুড়ে পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে।