চন্দ্রায় ১০-১২ কিলোমিটার যানজট, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ধীরগতি
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করায় গাজীপুরে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল।
আজ বুধবার সকাল থেকেই থেমে থেমে যানবাহন চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা ত্রিমোড়, নবীনগর সড়ক এবং ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কোথাও যানবাহন দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে আছে, আবার কোথাও ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এখনো যানজট সৃষ্টি না হলেও কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। দুপুরের পর পরিস্থিতির অবনতি পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সকাল থেকেই বাসের অপেক্ষায় শত শত শ্রমিককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যানবাহন পাচ্ছেন না।
ময়মনসিংহে যাওয়ার জন্য অপেক্ষারত এক শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আগে যেখানে ৫০০-৬০০ টাকায় তিনজন যেতে পারতাম, এখন এক হাজার ৫০০ টাকা চাচ্ছে। আমাদের জন্য এটা খুব কষ্টকর।
জামালপুরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষারত শ্রমিক সাডিউল ইসলাম বলেন, চারজন নিয়ে অনেক ঘুরেও বাস পাচ্ছি না। কিছু লোকাল গাড়ি আছে, কিন্তু সেগুলোতে যেতে চাই না। আগে জানলে অন্যভাবে পরিকল্পনা করতাম।
ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে ময়মনসিংহগামী আলম এশিয়া পরিবহনের চালক আজিজুল মিয়া বলেন, ঈদে যাত্রীর চাপ বেশি, তাই ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
তবে শেরপুরগামী সোনার বাংলা পরিবহনের চালক আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কিছু নেওয়া হচ্ছে না।
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, গতকাল থেকেই ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আজ দুপুরের পর তা আরও কয়েক গুণ বাড়বে।
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে দায়িত্বে থাকা ইনস্পেক্টর তরিকুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের পর থেকে এই মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়ছে।