হামের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ও আইসিইউ প্রস্তুত: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেনের (রংপুর-৪) জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় দেওয়া নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আইসোলেশন সুবিধা না থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। আমাদের কোনো হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের অভাব নেই।
আইসিইউ সুবিধা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইসিইউ তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা সহজ নয়। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইনফেকশাস ডিজিজ সেন্টারে মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যে আইসিইউ ইউনিটটি অচল ছিল, সেটিকে পুনরায় চালু করে চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও অ্যানেস্থেশিয়া কর্মী নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা হয়েছে।
রাজশাহীতে হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরদিনই ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে, আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি বলেন, ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তুত রয়েছে এবং যেখানেই প্রয়োজন হচ্ছে দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো নতুন বাজেট উপস্থাপন করা হয়নি। তবে সরকার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ স্বচ্ছতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করবে। বাজেট বরাদ্দ বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী সৎ ও স্বচ্ছভাবে ব্যয় করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিশুদের জীবন রক্ষা করা।
দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার ও সদ্য সাবেক সরকারের টিকাদান ব্যর্থতা ও দীর্ঘ বিরতি দায়ী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২০ সালের পর সাড়ে ৫ বছর কোনো হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে এবং তারাই এখন বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় সংকট তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮ জেলা ও ৩০ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য ১২ লাখ শিশু। প্রথম দিনেই প্রায় ৯৬ শতাংশ অর্জন হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ দেওয়া হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় টিকা সংগ্রহ ও কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।