কারাগার থেকে বার কাউন্সিল নির্বাচন করতে চান ব্যারিস্টার সুমন, সুযোগ চেয়ে রিট

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

কারাবন্দি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল নির্বাচন আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন।

আজ বুধবার আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাসের মাধ্যমে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে এই রিট আবেদন দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. লিটন আহমেদ।

এতে হাইকোর্টের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যেন ঢাকার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ব্যারিস্টার সুমনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং একইসঙ্গে বার কাউন্সিলের সচিবকে নির্ধারিত সময়সীমা (১৬ এপ্রিল) পেরিয়ে গেলেও যথাযথভাবে পূরণ করা মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাতে ব্যারিস্টার সুমন কারাগারে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী প্রার্থীকে সেখানে সই করতে হয় এবং সশরীরে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হয়। সুমন বর্তমানে একাধিক বিচারাধীন মামলায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন এবং এ কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারছেন না।

প্রার্থী আটক থাকায় ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি ও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তিনি মনোনয়নপত্রে সই করতে পারবেন না।

প্রতিনিধি হিসেবে রিট আবেদনকারী লিটন আহমেদ গত ১২ এপ্রিল ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন জমা দেন, যেখানে ব্যারিস্টার সুমনের মনোনয়নপত্রে সই ও পরবর্তী সত্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

আইনগত সময়সীমাজনিত জরুরি পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এমন আবেদনের পরও জেলা প্রশাসক কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, অবহেলা করেছেন এবং কার্যত অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে প্রার্থী মনোনয়নপত্রে সই ও জমা দিতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে তাকে বেআইনিভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করেন লিটন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নিষ্ক্রিয়তা প্রার্থীর আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগে কৃত্রিম ও অযৌক্তিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

লিটন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা আগামীকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিটটি উপস্থাপনের চেষ্টা করবেন।