বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের: আইনমন্ত্রী
ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনায় এক বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্তব্য ও দায়িত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, 'বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের নয়। সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি কোনো মিসকন্ডাক্টের অভিযোগ ওঠে, সেটি দেখার বিষয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের।'
আজ শনিবার মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে সম্প্রতি শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষকের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর একটি ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা ও পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে এক বিচারপতির সন্তানের আচরণের প্রতিক্রিয়া দেখানোর পর এক শিক্ষককে বাসায় ডাকেন বিচারপতি। সেখানে তাকে অপমান করা হয়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে।
ঘটনাটি গত ১৬ এপ্রিল শুরু হয় বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সেদিন দিবা শাখার বাংলা মাধ্যমের দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে পদার্থবিজ্ঞানের এক শিক্ষকের কাছে বাংলা বিষয়ের একটি প্রশ্নের সমাধান জানতে চায় ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষক তাকে বাংলা বিষয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে বুঝে নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু শিক্ষার্থী আরও একবার শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চায়। একপর্যায়ে শিক্ষক কাছে গেলে ওই ছাত্র ‘অশোভন’ আচরণ করে বলে ওই শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানায়। তখন শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দেন।
প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরে ওই শিক্ষক বিষয়টি জানাতে শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ফোন করেন ও স্কুলে এসে কথা বলার অনুরোধ জানান। অভিভাবক ফোনেই বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’ হওয়ায় সরাসরি আলোচনার জন্য আসতে বলেন। অভিভাবক আসবেন বলে জানান।
শিক্ষকের অভিযোগ, পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১৮ এপ্রিল তাকে ওই অভিভাবকের বাসায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি আশা করেছিলেন, সেখানেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হবে। তবে সেখানে গিয়ে তিনি মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তার সঙ্গে তখন আরেকজন শিক্ষকও ছিলেন।