অসাধু গোষ্ঠী নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সামরিক বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, তবে কিছু অসাধু ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সামরিক বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং সকল ব্যর্থতার দায় সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়ে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণের আস্থা, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বেসামরিক প্রশাসনের একত্রিত সমন্বয়ের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সুদৃঢ় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

তিনি বলেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ই রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তুলবে।

শামছুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে, যখন সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে।

অতীতের কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, কোনো ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধে জড়ালে তার দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর নয়। ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি সর্বদা অনুগত ছিল, আছে এবং থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশ নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

‘রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব এবং সরকার, প্রশাসন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সশস্ত্র বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতমূলক, অনিয়ন্ত্রিত বা ব্যক্তিস্বার্থনির্ভর সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেবে না। জাতীয় স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্বের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের নির্দেশিত পথ অনুসরণে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান তিনি।