বিমান-বোয়িং ৩.৭ বিলিয়ন ডলার চুক্তির পর এবার মিশ্র বহরের প্রস্তাব এয়ারবাসের
বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা) চুক্তির চারদিনের মাথায় আবার তোড়জোড় শুরু করেছে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহ বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ও বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কায়জার সোহেল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে এয়ারবাসের পক্ষ থেকে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মতে, মিশ্র বহর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য উপকারী হবে।
এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই করে বিমান। চুক্তির অধীনে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কেনা হবে।
এর মাত্র চারদিন পর এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে মিশ্র বিমানবহরের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরেন।
এয়ারবাসের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমানের ভবিষ্যৎ বহর গঠনের বিষয়ে কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এয়ারবাসের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হয় যে কীভাবে একটি মিশ্র বহর ভবিষ্যতে বিমানের জন্য আরও বেশি বাণিজ্যিক সুবিধা আনতে পারে।
উল্লেখ্য, বোয়িং ও এয়ারবাস দুটি প্রতিষ্ঠানই উড়োজাহাজ বিক্রির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার অনুমোদন দেয়, কেবলমাত্র চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতাই বাকি ছিল।
এর আগে, ২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর ঢাকা সফরের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন শুল্ক চাপের মুখে বোয়িং কেনার পক্ষে অবস্থান নেয়।
